সুজন বিপ্লব

সুজন বিপ্লব;  প্রখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিঙ্কন-এর উক্তি,”আপনি যদি আইনজীবী হওয়ার জন্য মনস্হির করেন, তাহলে ধরে নেন এর অর্ধেক হয়ে গেছে।” বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয় আমরা দেখছি। এলএল.বি. স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার পরেও ইচ্ছা পোষণ করলেই আইজীবী হওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষানবিশদেরকে আইনজীবী সনদের অধিকার থেকে বার কাউন্সিল বঞ্চিত করে যাচ্ছে। আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার মারপ্যাঁচে ৮০ ভাগ আইন শিক্ষার্থী আইনপেশায় যুক্ত হতে পারেনা। আইনের ছাত্রদের আইনজীবী হওয়া স্বাভাবিক, এটাই প্রত্যাশিত।এমবিবিএস পাশ করে ডাক্তারি না করা যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি ‘ল’গ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রেও বেমানান লাগে।

এদেশে আইন শাস্ত্রে স্নাতকধারীদের সেবামূলক বৃত্তি বা আইন ব্যবসায় প্রবেশে অনুমতিপত্রের জন্য নানা প্রতিবন্ধকতায় বেকারত্বকাল প্রলম্বিত হচ্ছে। আইন পেশার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার কাউন্সিলের অযৌক্তিক নিয়ম-কানুনে এলএল.বি. গ্রাজুয়েটগণ বেকারত্বের অভিশাপে দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে ধুঁকে-ধুঁকে মরছে। প্রতিবছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন কলেজে এলএল.বি(স্নাতক) পাশ করা হাজার-হাজার ছাত্রছাত্রী পেশাগত অনিশ্চয়তার কবলে পতিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সরকারের একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ৪৬ নম্বর আদেশ, ১৯৭২(Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Order, 1972) দ্বারা গঠিত হয়ে আইনজীবীদের পেশার সনদ প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাময়িক সংবিধান আদেশ, ১৯৭২ অনুসারে রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত ক্ষমতাবলে তিনি এ আদেশ প্রদানে সম্মত হয়।

  মুজিববর্ষেও নন এমপিও শিক্ষক সমাজের ভাগ্যাকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন

অনুচ্ছেদ-‘২৭(১) ক’ অনুযায়ী একজন ব্যক্তি ৭ বছর ধরে মুক্তার হিসাবে কাজ করলে এবং বার বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে বিনা পরীক্ষায় আইনজীবী তালিকাভুক্ত হতে পারে। ৬০(২) বিধি অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০ বছর ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত এমন অ্যাডভোকেটের অধীন ৬ মাস সনদ প্রার্থীকে শিক্ষানবিশ(Pupile) হিসাবে কাজ করতে হয়। যে অ্যাডভোকেটের অধীন শিক্ষানবিশ চুক্তিবদ্ধ হয়, তার সাথে চুক্তি করার মেয়াদ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত চুক্তিপত্রসহ আবেদনপত্র বার কাউন্সিলে পেশ করা হয়। বার কাউন্সিলে চুক্তিসমেত আবেদন পৌঁছালেও অ্যাডভোকেট হিসাবে গ্রাহ্য হয়না। এলএল.বি. স্নাতক ডিগ্রিধারী সনদ প্রার্থী বার কাউন্সিলের অধীনে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে

অ্যাডভোকেট হিসাবে গ্রহণীয় হয়। একজন আইনজীবী সহকারী(মুহুরি) আদালতে কার্যসম্পাদন করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারলেও শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে বেকার বসে থাকতে হয়।

লেখক, সুজন বিপ্লব,শিক্ষানবিশ আইনজীবী