সড়কে ঝরল আট তাজা প্রাণ

ঈদযাত্রায় সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৭ জন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাবনা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাসচাপায় বিপরীত দিক থেকে আসা হিউম্যান হলারের আট যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আহত আরেক যাত্রী। এই দুর্ঘটনার আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ বলেন, দুপুর পৌনে ১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলায় ঢাকা-নগরবাড়ি হাইওয়ের বোয়ালিয়া কবরস্থান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওসি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি পাবনায় যাচ্ছিল। পথে শাহজাদপুর থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি হিউম্যান হলারকে বাসটি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে আটজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান আহত আরও এক যাত্রী। পুলিশ হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি। চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি বলেও জানান ওসি।

অন্যদিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাথারিয়া এলাকায় সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও আটজন।

নিহতরা হলেন- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বকান্দা গ্রামের ইষ্টু মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (১৬), একই গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে মো. লিমন মিয়া (১৭), মো. আলীর ছেলে মো. আফজাল মিয়া (১৭) ও লেগুনার চালক জয়কলস ইউনিয়নের ঘাগলি গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মো. নোমান (২৮)। তাৎক্ষণিকভাবে বাকি নিহত তিনজনের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

  রাষ্ট্রপতিকে নোটিশ দেওয়ার এখতিয়ারই নেই টেলিনরের

স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা থেকে লিমন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানই পার্শ্ববর্তী খাদে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুণ অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

পুলিশ জানায়, আহত আটজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে দুজনকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নাটোরের বড়াইগ্রামে মাইক্রোবাস উল্টে এক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর ও তার পরিবারের চার সদস্য।

নিহত মারিয়া তাসনিম পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল জলিলের মেয়ে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হসেন জানান, ঢাকার কদমতলী থানায় কর্মরত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল জলিল ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে মাইক্রোবাসে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলভরট গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে বড়াইগ্রাম উপজেলার মহিষভাঙ্গা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এসআই আব্দুল জলিলের মেয়ে মারিয়া তাসনিম।

ওসি জানান, গুরুতর অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *