Shadow

একে অপরকে দোষারোপ করছেন সাবরিনা-আরিফ

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় জেকেজি হেলথকেয়ারের জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত দম্পতি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে দফায় দফায় মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিবি)। মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে এই পরিস্থিতির জন্য স্বামী-স্ত্রী একজন অপরজনকে দোষারোপ করছেন। এমনকি একজন-অপরজনের এই পরিণতির জন্য দায়ী করছেন। তারা একে অপরের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধেও লিপ্ত হন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের সামনে। তবে সাবরিনাই বেশি উত্তেজিত ছিলেন। তিনি আরিফুলকে সব কিছুর জন্য দায়ী করে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছেন। অপরদিকে আরিফুল নিজের দোষ স্বীকার করার পাশাপাশি সাবরিনার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন। এ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত ডিবির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

  • এদিকে সাবরিনা ও আরিফুল হক চৌধুরী জালিয়াতি করে যে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তার খোঁজও করছেন ডিবির কর্মকর্তারা। করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের সময় টাকা নেওয়া এবং করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ তারা কোথায় রেখেছেন এ বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সাবরিনা শুরু থেকেই দাবি করছিলেন তিনি জেকেজির চেয়ারম্যান ছিলেন না। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকার সম্মানী নিতেন এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের একাধিক সিপিও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতনও নিয়েছেন।

  • ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেন, ওভাল গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেকেজি পরিচালিত হতো। কিন্তু একটি গ্রুপ অব কোম্পানি ওপেন করার জন্য যে ধরনের প্রটোকল থাকা দরকার, যে ধরনের আবশ্যকীয় বিষয় দরকার, সে ধরনের কোনো ডকুমেন্টস তারা দেখাতে পারেননি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জেকেজিকে শুধু নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছিল। নমুনাগুলো পরীক্ষা হবে অন্য জায়গায়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি জেকেজি করোনার প্রতিবেদনও দিত। তারা কী পরিমাণ প্রতিবেদন দিয়েছে, তার মধ্যে কী পরিমাণ ভুয়া এবং কী পরিমাণ সত্যি এগুলো খতিয়ে দেখছি। কারণ তাদের তো সার্টিফিকেটই দেওয়ার কথা নয়।

সাবরিনার রিমান্ড শেষ হলে আবার নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে জানিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তখন হয়তো আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। যেসব আসামি পলাতক রয়েছে, তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • সাবরিনা-আরিফুল দম্পতিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এখনো যেসব বিষয়ে সন্দিহান সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব। তারা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে সেবা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ, নমুনা পরীক্ষা এবং করোনার প্রতিবেদন দেওয়ার নামে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অর্থ তারা কোথায় রেখেছেন, কার কার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসব টাকার লেনদেন হয়েছে এগুলোর বিষয়েও তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
  বাদপড়া চার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির চেয়ারম্যান হয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ করায় ইতোমধ্যে সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাবরিনা এবং তার স্বামী জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার সংক্ষেপে জেকেজি। জুনের শেষ দিকে অভিযোগ আসে, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল। গত ২২ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাবরিনার স্বামী প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেকেজি নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. সাবরিনার কথাই বলা হতো। তবে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দাবি করেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই মাস ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

  • এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জালিয়াতির ওই মামলায় সাবরিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পর দিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। আজ শুক্রবার রিমান্ড শেষে তাকে আবারও আদালতে তুলে নতুন করে রিমান্ড চাইবে ডিবি। এদিকে গত বুধবার সাবরিনার স্বামী আরিফুলকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয় ডিবি।

আমাদের বাণী ডট কম/১৭  জুলাই ২০২০/পিপিএম

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •