কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী না ফেরার দেশে চলে গেলেন । খুব কাছাকাছি সময়ে কয়েকজন শোবিজ তারকাদের মৃত্যুর পর জনমনে বেশ দুঃশ্চিতা ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম রোজার ইফতারের পরপরই এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর ভেসে আসে। এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক মহলে সাড়া পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয় বিষয়টি। তবে মোবাইলে যোগাযোগ এটিএম শামসুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার চিকিৎসা চলতে থাকা রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত আজগর আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। বিষয়টি একরকম এড়িয়ে গেছেন তারা। এদিকে অসুস্থ হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গণমাধ্যমে এটিএম শামসুজ্জামানের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে সব খবরাখবর দিয়ে আসছিলেন ছোট ভাই শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের পরিচালক আলহাজ সালেহ জামান সেলিম। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক মহলের খবর, কোনো এক অজানা কারণে এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক পরিস্থিতির বিষয়ে মুখ খুলছে না তার পরিবার ও অন্যান্য সদস্যরা। এদিকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করে একুশে পদকজয়ী এই অভিনেতার শারীরিক কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। তবে তার মৃত্যুর সংবাদটি এখন পর্যন্ত গুজব বলে মনে করা হলেও খবরটিকে উড়িয়ে দেয়ার মতো সূত্রও মেলেনি সাংবাদিকদের কাছে। প্রসঙ্গত গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এই এটিএম শামসুজ্জামানকে। তার মলত্যাগে জটিলতা দেখা দিলে গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে জরুরি ভিত্তিতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে সফলভাবে অস্ত্রোপচার শেষ হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদিন বেলা ৩টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। গত ৩ মে শুক্রবার সকালে তার অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয় কিন্তু আইসিইউতেই রাখা হয়। এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসা তত্ত্বাবধানকারী ডা. রবিউল আলীম এসক তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু জানা গেছে মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হওয়ায় ফের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এই বরেন্য অভিনেতাকে। উল্লেখ্য, খুব কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীতভুবনের একের পর এক কিংবদন্তি শিল্পীরা চলে যাচ্ছেন। চলতি বছরে সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ, অভিনেতা টেলি সামাদের পর মঙ্গলবার চলে গেলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। গত বছরের অক্টোবরে হঠাৎই মৃত্যু হয় কিংবদন্তি ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর। এরপর সুরের মায়া কাটিয়ে চলে যান বিখ্যাত সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা এটি এম শামসুজ্জামান। বরেণ্য এই অভিনেতা ভীষণ অসুস্থ হয়ে ছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু না, চিকিৎসকরা এখনো বাড়ি ফেরার অনুমতি দেননি তাকে। ঈদটাও হাসপাতালেই কাটাতে হতে পারে এই অভিনেতাকে।

হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ছাড়পত্র দেননি চিকিৎসকরা। গতকাল দুপুরে এটিএম শামসুজ্জামানের স্ত্রী রুনি জামান বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়, এই ভালো তো এই খারাপ অবস্থার মধ্যে একেকটা দিন কাটছে। তাই চিকিৎসকরাও কোনো ধরনের রিস্ক নিতে চান না। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। যেন সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরতে পারেন।’

গত ২৬ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে অসুস্থ বোধ করায় এ টি এম শামসুজ্জামানকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর হঠাৎ করেই তার রেচন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। গত ২৭ এপ্রিল তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর সুস্থতা অনুভব করলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারো তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

  এবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন তামিল নায়ক রাম চরণ!

১৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার সব ধরনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অভিনেতার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এটিএম শামসুজ্জামান অভিনয়ে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পান রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং নির্মাতাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *