জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস-ভ্যাট বিভাগে কর্মরত ২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জনই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২০)  রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের চারজন কাস্টমস কর্মকর্তা ও একজন কম্পিউটার অপারেটরের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা হলেন-রাজস্ব কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, কপিল দেব গোস্বামী, জামিল সারওয়ার ও কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসান।

করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর থেকে এই ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে রয়েছেন। তারা সবাই বাসা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নতুন এই ৫ জনসহ চট্টগ্রাম কাস্টমসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জন।

এছাড়া আগে যে ৮ জন কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন তারা হলেন-রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন মজুমদার, আমজাদ হোসেন, মো. আহসান হাবীব, নুরুল মোস্তফা, জাফরুল্লাহ এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. দারাশিকো, সুজন কুমার সরকার ও ফারুক আব্দুল্লাহ।

কাস্টম হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটে আক্রান্তরা হলেন-আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মজুমদার ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নুরে আলম। আর ঢাকা কাস্টম হাউসের তিনজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা-শেখ আজমুল ইসলাম, মো. ফয়সাল বিন আশিক ও ছালেহা খাতুন। ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম। ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ও চট্টগ্রামের ভ্যাট কমিশনারেটের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা।

  • এদিকে ২৮ মে বিকেলে বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা-তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় কর্মরত যেসকল কর্তকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে করোনার উপস্বর্গ রয়েছে তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগিতায় তাদের টেস্ট করানো হচ্ছে। আজও ১৫ জনের টেস্টের নমুনা পাঠানো হয়েছে। আর আগামি সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে টেস্ট করানোর ব্যবস্থা করা হবে। কারণ ওখানে রোগির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

তিনি জানান, এ ছাড়াও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এনবিআরের যেসব কর্মকতা-কর্মচারী কিংবা তাদের পরিবারের যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন। তবে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মো. জসিম উদ্দিন মজুমদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে দেশের সব কাস্টম হাউজ ও কাস্টম স্টেশনে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখার গত ২২ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) মোহাম্মদ মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
  রপ্তানি বাড়াতে বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা সময় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

  • এদিকে দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ২৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে জানানো হয় এখন পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে মোট ৪০ হাজার ৩২১ জন। মারা গেছে ৫৫৯ জন। আর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪২৫ জন।

এই পরিস্থতির মধ্যেই শর্তসাপেক্ষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে। এই সময়ে শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। এর মধ্যে দিয়ে করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অফিস-আদালত খুলছে। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (২৭ মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ৯ হাজার ২৬৭টি। পূর্বেরসহ নমুনা পরীক্ষা করেছি ৯ হাজার ৩১০টি। এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ২৯ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৩২১ জন। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।’ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ১৫ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৫৫৯ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন করে সুস্থ হয়েছে ৫০০ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৪২৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।’

আমাদের বাণী ডট কম/২৮  মে ২০২০/সিসিপি