তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  সরকারি কর্মচারীদের যারা করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, তারা প্রণোদনা পাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জূলাঈ ২০২০)  দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

যেসব সরকারি কর্মচারী রিজেন্ট ও জেকেজির ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না -এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কাছ থেকে কেউ যদি ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের কখনো সরকার প্রণোদনা দেবে না।

উল্লেখ্য, করোনাকালীন সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রণোদনা এবং আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ খাতে এক হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সেবাদানরত অবস্থায় কেউ করোনা আক্রান্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে ক্ষতিপূরণ খাতে বরাদ্দ রাখা রয়েছে। আর বাকি অর্থ যাবে করোনাকালীন সেবাদানরত ডাক্তার-নার্সসহ সরকারি চাকরিজীবীদের প্রণোদনা খাতে।

শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৭ সালের এই দিনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রকেই বন্দি করা হয়েছিল। এ কারণে ১৬ জুলাই শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস নয়, গণতন্ত্রেরও বন্দী দিবস।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এইদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায়। প্রকৃতপক্ষে অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধ করার জন্য, গণতন্ত্রকে বন্দি করার জন্যই সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা গত সাড়ে ১১ বছর ধরে বাংলাদেশকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ তার নেতৃত্বে স্বল্পন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে, দারিদ্র্য ৪১ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তার নেতৃত্বে গত সাড়ে ১১ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যোগ করলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ এবং বাঙালি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীর সামনে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে।

  ভুতুড়ে বিলে সহসাই ভোগান্তি কাটছে না

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনের সর্বশেষ (১৬ জুলাই ২০২০)  দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২  হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জনে আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ৪৯৬ জন। ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি পরীক্ষাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪৮টি। আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৮৮৯টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২৯১টি। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ৭৩৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জন। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।’  ‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৬৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৩৯ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ২ হাজার ৪৯৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। মৃত্যু বিশ্লেষণে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী ৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন পুরুষ ১ হাজার ৯৭১ জন এবং নারী ৫২৫ জন।’

আমাদের বাণী ডট কম/১৬  জুলাই ২০২০/পিপিএম