আমাদের বাণী ডেস্ক, ঢাকাঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে একদিনের জন্যও প্রতিষ্ঠান বন্ধ না রাখার অভিযোগ উঠেছে নরসিংদীর পলাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

সরকার দলীয় এক ব্যক্তির পরিচালিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নির্দেশের কোনো তোয়াক্কাই করছে না বলে স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হলেন ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র শরিফুল হক।

একদিনের জন্যও বন্ধ না রাখা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম আটিয়া ঘোড়াশাল পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর অবস্থান পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের আটিয়া গ্রামে। বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬৫ জন আর শিক্ষকের সংখ্যা ৪ জন।

বিদ্যালয়টির কয়েকজন অভিভাবক জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারি নির্দেশনায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে আটিয়া ঘোড়াশাল পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত একবছরের মধ্যে একবারের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি।

সরকারি ছুটির দিন বাদে সপ্তাহে ৫ দিনই এখানে বাচ্চাদের এনে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই কয়েকটি ব্যাচে ক্লাস করানো হচ্ছে। বিদ্যালয়টি পরিচালনায় ঘোড়াশাল পৌরসভা সরাসরি যুক্ত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনও এসব দেখেও দেখে না।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আসিফ মিয়া জানান, প্রতিদিনই বিদ্যালয়টিতে ক্লাস হচ্ছে, এমন তথ্য সত্য নয়। আমাদের বিদ্যালয়টিতে পড়ুয়া প্রায় সকল শিক্ষার্থীই অর্থনৈতিকভাবে গরীব ও তাদের বসবাসও বিদ্যালয়ের আশেপাশেই। তাদের পড়াশোনা যেন সচল থাকে সেই লক্ষ্যে আমরা কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তার মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে দুদিন স্কুলে আসছে অ্যাসাইনমেন্টের পড়া দেয়া-নেয়ার জন্য।

  কোন মানদণ্ডে এমপিও’র তালিকা তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাকী শিক্ষার্থীদের বেলায় আমরা শিক্ষকরাই তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি অ্যাসাইনমেন্ট দিতে-নিতে। যারা বিদ্যালয়ে আসছে তাদের অ্যাসাইনমেন্টের পড়া আমরা বোর্ডে লিখে দিই, তারা তা লিখে নিয়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থীর পড়া বুঝতে সমস্যা হয়, এই সুযোগে তারাও পড়া বুঝে নিয়ে যায়। বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র শরীফুল হককে অবগত করেই আমাদের এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন এই শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, বাধ্য হয়েই করোনার ঝুঁকির মধ্যে সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছি। বিদ্যালয়টির সব অভিভাবক বাচ্চাদের ক্লাসে পাঠিয়ে করোনার আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এমন অবস্থায় ছোট ছোট বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে ঘরে রাখা দরকার।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র শরিফুল হকের মুঠোফোনে আজ দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অন্তত ১০ বার কল দেন এই প্রতিবেদক। তবে প্রতিবারই তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (সহকারী) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আটিয়া ঘোড়াশাল পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি করোনা সংক্রমণের মধ্যেও চালু আছে এমন খবর আমি এই প্রথম শুনলাম। আমি আজই এই সম্পর্কে খোঁজখবর নেব। বিদ্যালয়টির অবস্থান উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন ও ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরিফুল হকের নিজ এলাকায়। তারা দুজনেই বিদ্যালয়টির সার্বিক তত্তাবধান করেন বলে জানি। এমন তো হওয়ার কথা নয়।

আমাদেরবাণী/মৃধা