করোনাভাইরাসের টেস্টের রিপোর্টে খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিনের সঠিক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাধিক জন্মদিনের নামে জাতিকে এতদিন খালেদা জিয়া অন্ধকারে রেখেছিলেন। অবশেষে করোনা টেস্ট রিপোর্টে তার জন্মদিনের সঠিক তথ্য প্রকাশিত হলো।

আজ সোমবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একাধিক জন্মদিনের নামে জাতিকে এতদিন বেগম জিয়া অন্ধকারে রেখেছিল। প্রকৃতপক্ষে তার জন্মদিন করোনা টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী ৮ মে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন মানুষ অসত্যের সাথে চলতে পারে না, পারে না সত্যকে লুকিয়ে রাখতে। হাতের তালু দিয়ে যেমন আকাশ ঢাকা যায় না, তেমনি সত্যকেও কখনো আড়াল করে রাখা যায় না। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নির্মম, বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড ১৫ আগস্ট। অথচ, কতটা নিষ্ঠুর হলে এই দিনে বেগম জিয়া এতদিন তার ভুয়া জন্মদিন পালন করে আসছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বেগম খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা জাতির পিতার হত্যাকারীদের উৎসাহিত করা এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করারই শামিল বলে জনগণ মনে করে। বিএনপির নেত্রী কি পারতেন না শোকাবহ ১৫ আগস্টে ভুয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করতে? বিভিন্ন সময়ে জন্মদিন পালনকারী বেগম জিয়ার জন্মদিন বিষয়ক আসল সত্য তিনি নিজেই উন্মোচন করেছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বেগম জিয়া কেক কেটে উৎসবের সাথে ভুয়া জন্মদিন পালন করতেও দেখেছে জাতি।’

  আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি ক্ষেত মজুর ইউনিয়ন ও কৃষক সংহতির

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী জন্মদিন ৯ আগস্ট ১৯৪৫, বিবাহ সনদ ৫ সেপ্টেম্বর ১৮৪৫, পাসপোর্ট সনদ ১৯ আগস্ট ১৯৪৫, আবার দাবি করেন ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ তার জন্মদিন। একজন মানুষের এতগুলো জন্মদিন থাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য এখন নতুন করে বেগম জিয়াই উন্মোচন করেছেন। অবশেষে করোনা টেস্টের জন্য দেওয়া তথ্যে জানা গেল বেগম জিয়ার জন্মদিন ৮ মে ১৯৪৬।’

তিনি আরও বলেন, স্বপরিবারে জাতির পিতার হত্যা দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন করা কতটা নিষ্ঠুর ও বিদ্বেষ প্রসূত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তি এবং চিকিৎসা নিয়ে এর আগেও রাজনীতি করেছেন, এখনো করছেন। আমরা তার রোগমুক্তি অবশ্যই কামনা করি, তার বয়স বিবেচনায় এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে মানবিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনা সাজা সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। বিএনপি নেতারা এখনো বেগম জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে রাজনীতিকে অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন।

বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তার বিদেশ যাত্রার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রীর বক্তব্য সবাই জেনেছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ডক্টর আবদুর রাজ্জাক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির এবং সংসদ মোজাফফর হোসেন।