Shadow

করোনায় আক্রান্ত শিক্ষক ছেলে, উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন বাবা-মা

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
মজিবুর রহমান পাটওয়ারী ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম। ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুর সংবাদদাতা;  করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন স্বামী-স্ত্রী। একই বাসায় থাকা কলেজ শিক্ষক ছেলে এবং স্কুলছাত্র নাতি ছয় দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তারা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শহরের চিত্রলেখা এলাকার রাবেয়া বেগম (৭২) গতকাল সোমবার (১৮ মে ২০২০) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এবং তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান পাটওয়ারী মারা যান পরদিন আজ ভোর ৫টার দিকে। পরিবারের দুই সদস্য করোনা পজিটিভ হওয়ায় এবং তাদের কিছু উপসর্গ থাকায় তাদের গত রবিবার (১৭ মে) নমুনা সংগ্রহ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

মারা যাওয়া দম্পতির ছেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক (পিআর) আনোয়ার হাবিব কাজল জানান, ‘আমার মা সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের চিত্রলেখা এলাকার বাসায় মারা যান। এরপর রাত সাড়ে ৩টায় আশিকাটি ইউনিয়নের হোসেনপুরের গ্রামের বাড়িতে দাফন করে শহরের বাসায় আসি। এর দেড় ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে মারা গেলেন বাবাও। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজেদা পলিন জানান, ‘মারা যাওয়া দম্পতির ছেলে এবং নাতির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে গত ১৩ মে। যেহেতু তাদের পরিবারের দুইজন ইতোমধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদেরও কিছু উপসর্গ ছিল, তাই ১৭ মে রবিবার তাদের নমুনা সংগ্রহ করি। তাদের রিপোর্ট এখনও আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ মজিবুর রহমান অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি করোনায় আক্রান্ত হতেও পারেন, আবার নাও হতে পারেন। রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (১৯ মে ২০২০)  তথ্য অনুযায়ী,  দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও নয় হাজার ৯১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আট হাজার ৪৪৯টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ২৫১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ১২১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২১ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭০ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৪০৮ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ হাজার ৯৯৩ জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের চারজন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে একজন ও বরিশাল বিভাগে একজন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে ১১-২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১-৩০ দুইজন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১-৫০ পাঁচজন, ৫১-৬০ পাঁচজন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে চারজন এবং ৭১-৮০ বছরের মধ্যে দুইজন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩২৬ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৯৩ জনকে।

  করোনায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা!

আমাদের বাণী ডট কম/১৯ মে ২০২০/ডিএ 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •