Shadow

করোনায় নুয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  মহামারি করোনায় নজিরবিহীনভাবে নুয়ে পড়েছে অর্থনীতি। থমকে গেছে উৎপাদন, বিপণন, আমদানি-রপ্তানি, যোগাযোগসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বেকার হয়ে পড়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটি ও বিভিন্ন রকম কার্যক্রম গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। আবার অর্থনীতির সব খাতে সীমিত আকারে খুলে দিলেও আশারূপ ফল মেলেনি।

উৎপাদন : করোনাভাইরাসের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের উৎপাদন ও বিপণন। রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর দেশে যে বিপুল উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, করোনার আঘাতে তা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বৈশি^ক করোনার প্রভাবে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে দেশের প্রধান সংগঠিত শিল্প খাত তৈরি পোশাক বড় ধরনের ঝাঁকুনি লাগে। বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন ও বিপণন। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে রপ্তানিতে ৬/৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল এপ্রিল মে মাসে তা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। মে মাস থেকে স্বল্প পরিসরে কারখানা খুলে দিলে উৎপাদন রপ্তানি হ্রাস কিছুটা কমে আসে। ২০১৯-২০ অর্র্থবছর শেষে রপ্তানির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৮ শতাংশে। দেশের রপ্তানি ইতিহাসে সর্বোচ্চ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এর আগে রপ্তানিতে কখনো এত বিপর্যয় ঘটে না।

ডিসেম্বরে চীন থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে দেশের কাঁচামাল আমদানিতে আঘাত লাগে। তখন থেকেই উৎপাদন ব্যাহত হয়। এপ্রিল মাসে এসে অর্থনীতিতে পুরোপুরি ধাক্কা লাগে। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটির নামে দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হলে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় আঘাতটি লাগে। প্রায় ছয় কোটি শ্রমজীবী মানুষে বেকার জীবনযাপন শুরু করে। শিল্পকারখানা, বিপণন ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রায় দুই কোটি মানুষ পুরোপুরি বা অংশিকভাবে রোজগারহীন হয়ে পড়ে। যা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদারও সংকটে পড়ে। ফলে অর্থনীতি চরমভাবে নুয়ে পড়ে। জুন মাসে এসে সীমিত আকারে উৎপাদন, বিপনন, যোগাযোগ ও আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও তা চলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। প্রায় কোটি মানুষ অংশিক বা পুরোপুরিভাবে কর্মহীন জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হয়েছে।

করোনাভাইরাসের একদিনে কোনো উন্নতি আসেনি বলেন মনে করেন বিশ^ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ রোধে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তার কোনোই কাজে আসেনি। টেস্টিং ও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর চিকিৎসার উন্নতি না হওয়া মানে কোনো কিছুই হয়নি। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সব কিছু সীমিত আকারে খুলে দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কর্মী উদ্যোক্তা সবাই ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারাও আস্থা আনতে পারছে না। কার্যাদেশ বাড়ছে না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান : ব্যাংককে অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্যোক্তারা প্রথমে আমদানি করতে আঘাত পায়। তারপর উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানি বন্ধ থাকার কারণে চূড়ান্ত আকারে আঘাত পায়। ব্যাংকের কিস্তির টাকা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। ব্যাংকের টাকা এ সময়ে ফেরত আসেনি। ব্যাংকেও সীমিত আকারে কাজ চলেছে। এ সময় সরকার এক লাক কোটি টাকা টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার কারণে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়নি। এ সময় ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ লোকসান গুনে।

কৃষি খাত : করোনার মধ্যে মোটামুটি সচল ছিল কৃষিখাত। করোনার শুরুর সময়ে বোরো ধান কাটার মৌসুম ছিল। করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারের সহায়তা ও কৃষকের সর্বোচ্চ চেষ্টার ফলে সফলতার সঙ্গে ধান কেটে ঘরে তোলে। এ সময় মানুষ শহরে থেকে গ্রামে চলে যাওয়ার কারণে গ্রামে কৃষি শ্রমিকের অভাব কিছুটা দূর হয়। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত সবজি ও ফলমুল বিক্রির সমস্যায় পড়ে। এ সময়ে শহরের বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়। তবে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে থাকে। কিন্তু পোলট্রি, গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কৃষকরা এখনো সমস্যার মধ্যেই রয়েছে। এ সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়ার কারণে কৃষির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। করোনার প্রভাচব কাটিয়ে ওঠার কারণে সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ প্রণোদনা ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

  ১৪ দিন ছুটি বাড়লেও ঘরে বসেই ঈদ করতে হবে

রেমিট্যোন্স : বাংলাদেশের অর্থনীতির তিন ভিত্তির অন্যতম হলো প্রবাসি আয় বা ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স। রপ্তানি আয় ও কৃষির পরই রেমিট্যান্স। মার্চ থেকে করোনার আঘাত শুরু হলে সাময়িকভাবে রেমিট্যান্সে কিছুটা আঘাত লাগে। এ সময়ে প্রবাসীরা দলে দলে দেশে ফিরতে থাকে। প্রবাসী আয় ও প্রবাসী কর্মী নিয়ে এক হতাশাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মে মাসের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। প্রবাসীরা কিছু কিছু ফিরে আসতে থাকলেও রেমিট্যান্স স্বাভাবিক হয়ে যায়। জুন মাস শেষে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে সব অনিশ্চয়তা দূর হয়। জানুয়ারি-জুন ছয় মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রায় সঞ্চায়ন বেড়ে প্রায় ৩৬ বিলিয়নে পৌঁছে।

করোনাকালে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। জীবন বাঁচানো সবচেয়ে বড় কাজ হয়ে দাঁড়ায়। অর্থনীতির প্রাণ স্পন্দন নিষ্প্রভ হলেও বড় কাজ হয়ে দাঁড়ায় করোনা সংক্রমণ থেকে জীবনকে বাঁচানো। ফলে অর্থনীতিও সংকটে পড়ে। এখনো এ অবস্থা বিরাজমান।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতি কি পর্যায়ে আছে তা নির্ভর করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ করতে পেরেছে। এখনো যেমন করোনাকে বশে আনা যায়নি, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। যেহেতু অর্থনীতিও তার ¤্রয়িমান অবস্থা থেকে উত্তরণ হয়নি। আগামীতে কবে এর উত্তরণ ঘটবে তাও বলা যাচ্ছে না। করোনাকে নিয়ন্ত্রণে না এনে জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর জন্য সবকিছু সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার ভুল হয়েছে। সূত্র; খোলা কাগজ

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০৪  জুলাই ২০২০ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৯৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার  ২৮৮ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯। আজ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪  হাজার ৭২৭ টি যা গতদিনে ছিল ১৪   হাজার ৬৫০  টি । গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও দুই হাজার ৬৩৭ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭০ হাজার ৭২১ জনে।

আমাদের বাণী ডট কম/০৪ জুলাই  ২০২০/পিপিএম 

সৈয়দপুরের বিজ্ঞাপন


শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •