কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতাঃ কুমিল্লার বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া নিয়ে কুমিল্লা-৫ আসন। জেলার সীমান্তবর্তী বুড়িচং-ব্রাহ্মনপাড়া সংসদীয় আসনটি স্বাধীনতার আগ থেকেই আওয়ামী লীগের সমর্থন পুষ্ট এলাকা। বুড়িচংয়ের ৯টি এবং ব্রাহ্মণপাড়ার ৮টিসহ মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই দুটি উপজেলার সংসদীয় আসনের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক। স্বাধীনতা পরবর্তী এই আসনটি প্রথমে অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, বীরমুক্তিযোদ্ধা, তৃণমূল থেকে উঠে আসা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন খসরু ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে (মোট ৫ বার) সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে অনেকটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা ছিলেন প্রয়াত এমপি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।

তবে গত ১৪ এপ্রিল এই নেতার মৃত্যু পরই শূন্য হওয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আলোচনায় এসেছেন প্রায় এক ডজন নেতার নাম। এই এক ডজন নেতাদের নিয়ে চলছে রাজনৈতিক পাড়ায় মহল্লায় আলোচনা,পর্যালোচনা, চলছে জনসাধারণের মধ্যে কানাঘোষা, নানা কৌতূহল।তবে প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক পাড়ায় প্রতিযোগীদের নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, ক্লিন ইমেজের, সৎ, ভদ্র নিরহংকার, নির্লোভ একজন একনিষ্ঠ আওয়ামীলীগ নেতা ও সাধারণ শিক্ষক এর নাম। তিনি হলেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুমিলা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ, কুমিলা জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, তৎকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের এই নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আহত ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিলেন। ২১ শের গ্রেনেড হামলারতেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি, পরবর্তীতে আহত, নিহত পরিবারের সাহায্যার্থে তৎকালিন বিরোধীদলীয় নেত্রীর ‘জননেত্রীর ফান্ড’ এ অর্থ সাহায্য করেছিলেন। এক এগারোর সময়ে প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির লড়াই থেকে শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দুর্দিনে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে থেকেছেন সম্মুখ সারিতে, করেছেন কারাবরণ হয়েছেন নির্যাতিত।  গতবছর পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সমাবেশেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সম্মেলনের সুভেনির তুলে দিয়েছিলেন এই নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ।

শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী ফকির বাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি, ফকির বাজার সুন্নিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি (বর্তমানে সভাপতি), প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আজীবন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ও স্কাউটস লিডার। অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক লোহাই মুড়ি গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান চৌধুরী পরিবারের সন্তান ও
প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ধান্যদৌল খান চৌধুরী পরিবারের বংশধর।

বুড়িচং উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বুড়িচং উপজেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক রাজনীতিতে আপোষহীন ভূমিকা থাকায় প্রধানমন্ত্রী তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিচালনা কমিটির সদস্যের। শিক্ষক নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন দিয়েছেন নেতৃত্ব। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি আর্থিক অনুদান থেকে শুরু করে অর্থের অভাবে লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সাহায্য করেছেন। পালন করেছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব। এছাড়াও করোনার মহামারির সময়ের শুরু থেকেই এলাকার খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের পাশে থেকেছেন দিয়েছেন সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা এবং ত্রাণ সামগ্রী।

তার কর্মকান্ডে খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট এর সরকার কর্তৃক মনোনীত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। একনিষ্ঠভাবে টানা তিন বার অর্থ্যাৎ নয় বছর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

একান্ত আলাপকালে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব দেয়া অধ্যক্ষ চৌধুরী মানিক আব্দুল মতিন খসরু সম্পর্কে বলেন, আমরা শুধু আমাদের এই আসনের না সমগ্র দেশের ‘একজন জননেতা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিককে হারালাম; যিনি জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলায় আইনজ্ঞ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার উত্তরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আমাদের এই আসনের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে তিনি বুড়িচং-ব্রাহ্মনপাড়া এলাকার দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও আব্দুল মতিন খসরু বুড়িচং-ব্রাহ্মনপাড়ায় ছিলেন একই নাম। আমরা এরকম নেতাকে হয়ত আর ফিরে পাব না তবে তার উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করতে পারি। বাঁচিয়ে রাখতে পারি খসরু ভাইয়ের আদর্শকে।

  রোজায় অফিস সকাল নয়টা থেকে সাড়ে তিনটা

তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিগত তিনবার মনোনয়ন চেয়ে পাইনি। এবারো প্রত্যাশা আছে নেত্রীর কাছে। পেলে আমি প্রয়াত এমপি মতিন খসরুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে সেই ছেলেবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আমার নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল নির্দেশনা মেনে সকল গঠনমূলক কার্যক্রম করতে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াকে মতিন খসরু ভাইয়ের রেখে যাওয়া থেকে শুরু করতে চাই। সকল ভালো মানুষকে নিয়ে গড়ে তুলতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার গ্রাম হবে শহর বাস্তবায়নেও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে চাই। মতিন খসরু ভাইয়ের অসমাপ্ত দুই উপজেলায় গ্যাস দেয়া, দুই উপজেলায় দুই টি পৌরসভা করা, কৃষি ভিত্তিক এলাকা হিসাবে উচ্চ শিক্ষার জন্য কৃষি বশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবো। সকল ক্ষেত্রে শিক্ষিত জ্ঞানী গুনিদের মূল্যায়ণ করে তাদেরকে এলাকা মুখী করবো।

এত নেতার ভিড়ে আপনাকে দলীয় সভানেত্রী কেন মনোনীত করতে পারেন বলে আপনি আশা রাখেন জিজ্ঞেস করলে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক এই প্রতিবেদকে জানান, আমার ব্যক্তিগত ও দলীয় এবং পেশাগত কর্মকান্ডে খুশি হয়ে নেত্রী আমাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসিয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে একটুও পিছুপা হইনি। ঢাকার রাজপথে পুলিশি নির্যাতন সহ্য করে মুজিব আদর্শের কর্মী-নেতা হিসাবে সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। তাছাড়া আমার কর্মজীবনে আমি কোন দিনও কোন অন্যায় কাজ করিনি , সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি এবং অন্যায় কে প্রশ্রয়ও দেয়নি। দলকে ব্যবহার করে অনৈতিক কোনও সুবিধা নেইনি।  আমার দীর্ঘ রাজনীতির পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন করলে আমি আশা রাখি নেত্রী আমাকে মনোনীত করবেন। আমি দেশ বিদেশেও দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি দীর্ঘ দিন জাতীয় শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে শিক্ষকদের সম্মান মর্যাদার আন্দোলনও তৎকালিন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশায় কতটা পাশে থাকতে পেড়েছেন এমন প্রশ্নে এই নেতা বলেন, কতটুকু পেরেছি তা বলতে পারব না তবে আমি সেই ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের দুঃখ দুর্দশায় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেও যেমন মানুষের জন্য কাজ করেছি  দল ক্ষমতায় না থাকলেও করেছি। এই করোনা মহামারীতে সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশের থাকার চেষ্টা করেছি যা এখনও চলমান। তবে আমি কুমিল্লা-৫, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে খসরু ভায়ের সাথেও কাজ করেছি। আমি কি করেছি তার মুল্যায়ন তো আমি করব না করবে জনগণ ও আমার নেত্রী দেশরত্ন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছেন  প্রয়াত মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিনা সোবহান খসরু,সাবেক বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের নাম শোনা গেলেও , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম রেজা সৌরভ, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান, এমপি মতিন খসরুর এমপির সহোদর কুমিল্লা বারের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন ফেরদৌস, ওষুধ প্রশাসনের ডিজি (সাবেক) মে: জে: (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বর্তমান বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, ব্যারিস্টার সহরাব খান চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আবদুস সালাম বেগ, ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, শাহজালাল মোল্লাহ প্রমুখের নাম ও শুনা যায়।

বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে কেমন প্রতিনিধি চান, জিজ্ঞেস করলে বলেন, মতিন খসরু এমপি কে পাবোনা কিন্তু ওনার আদর্শ ধারণ করে একজন নিবেদিত ভালো মানুষ চাই আমরা।

শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলামকে কেমন জনপ্রতিনিধি চান জানতে চাইলে বলেন, একজন ভালো মানুষ চাই। যিনি এই জনপদের মাটি ও মানুষকে বুঝেন। সততা, ক্লিন ইমেজের একজন শেখ হাসিনার আদর্শ সত্যিকার অর্থে লালন ধারণ করেন।