ভবদহ পাড়ে যেন কান্নার রোল পড়েছে। রান্না ঘরে পানি, বসত ঘরে পানি, গোয়ালঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পানিতে সয়লাব। এখন সন্তান-সন্ততি নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পানির উপরেই থাকতে হয়।

সোমবার দুপুরে ভবদহ মশিয়াহাটী বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মানববন্ধনে আসা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষের আহাজারিতে এসব কথা উঠে আসে। এ সময় কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।

ভবদহ সমস্যা সমাধানের নামে ৮০৮ কোটি টাকার মাটি কাটা প্রকল্প বাতিল ও ভবদহের স্থায়ী সমাধানে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-জোয়ারাধার প্রকল্প) বাস্তবায়নের দাবিতে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ডাকে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এলাকা ঘুরে ও মানববন্ধনে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, বছরের পর বছর এভাবে থেকে আজ পিঠে দেয়ালে ঠেকে গেছে। যশোর-খুলনা জেলার ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রবাহ পথ ভবদহ স্লুইচ গেট। এ গেট সংলগ্ন শ্রী, হরি, টেকা নদীসহ বিভিন্ন ছোট-বড় খালে পলি জমে বিল থেকে উঁচু হওয়ায় এখন আর এক বিন্দুও পানি সরছে না।

একদিকে উজানের ঢল অপরদিকে অতিবৃষ্টির কারণে ভবদহ পাড়ের কমপক্ষে শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকায় মানুষের মাঝে চরম দুর্দশা নেমে এসেছে। এ অবস্থা বিরাজ করলে ভবদহ বিল পাড়ে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

  সিলেটে কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ইন্সপেক্টরের অশ্লীল ভিডিও, তদন্ত কমিটি

তাই পানি সরানোর দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন পানিবন্দি মানুষ। দাবি তুলছেন ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য টিআরএম (রিভার টাইডাল ম্যানেজমেন্ট-জোয়ারাধার) বাস্তবায়নের।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেস্টুন হাতে নিয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নসহ এলাকার সকল নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও অবমুক্ত করে আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত ও গভীর খনন করতে হবে, ভবদহ স্লুইচগেটের ২১ ও ৯ ভেন্টের মাঝ দিয়ে সরাসরি নদী সংযোগ দিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, অপরিকল্পিত মাছের ঘের অপসারণসহ পানি প্রবাহের সকল বাঁধ উচ্ছেদ করতে হবে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী, প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আব্দুল হামিদ, সদস্য সচিব চৈতন্য পাল, অনিল বিশ্বাস, কনৌজ চন্ডাল, শিবুপদ বিশ্বাস, কানু বিশ্বাস, মানব মন্ডল, কার্তিক বকশি, রাজু আহমেদ, পল্লী ডাক্তার শহিদুল ইসলাম, উত্তম কুমার বিশ্বাস, উৎস কুমার, শেখর বিশ্বাস, কার্তিক বকসি, সুকৃতি রায়, প্রদীপ হালদার ও অনির্বান ধর প্রমুখ।

আমাদের বাণী ডট কম/৬ অক্টোবর ২০২০/পিপিএম