Shadow

ক্ষমতার দাপটে দুর্গাপুরে কৃষিজমিতে পুকুর খনন অব্যাহত

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাহীন আলম,দূর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা;  কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধ ভাবে পুকুর খনন কাজ চলছে  জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ৬নং মাড়িয়া ইউনিয়নের শাহাবাসপুর ডুমুরকান্দি বিলে।  এই বিলে মোঃ রুহুল, প্রায় ৪০বিঘা কৃষি জমিতে  ও  একই ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামের মৃধাপাড়া বিলে মোঃ রুবেল ৫০ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছেন। দিনে এবং রাতের অন্ধকারে অবাধে চলছে অবৈধ পুকুর খননের কাজ। এসব অবৈধ পুকুর খননে সহযোগী করছে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি।

  • এসব পুকুর খননের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার কৃষি জমি। এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে ৮-১০ফিট গভীর করে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইট ভাটায়। যার ফলে মাটি সংকট এর কারণে চাইলেও কখনোই পুকুরকে জমিনের রুপ দেওয়া যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকরা  জানান, প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে জানালেও কোন লাভ হয়নি । তারা আরো বলে এসব অবৈধ পুকুর খনন কারীরা এতই প্রভাবশালী তাদের অবৈধ পুকুর খননের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেয় কৃষকদের বিভিন্ন মাধ্যম দেওয়া হচ্ছে হুমকি ধামকি।

  • তাদের অবৈধ পুকুর খনন বিষয়ে নিরুপায় হয়ে মুখ বুজে থাকতে হচ্ছে নিরীহ কৃষকশ্রেণী। এলাকার সাধারণ কৃষকদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটাই দাবি, অবিলম্বে এসব অবৈধ পুকুর খনন অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। অবৈধ পুকুর খনন কারীরদের আইনের আওতায় আনা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহাসীন মৃধা জানান, আমারা অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। দ্রুত এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ ও খনন কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • উল্লেখ্য, সম্প্রতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরণের অনুষ্ঠানে তিনি কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশনাও দিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যারা কৃষি জমি পতিত ফেলে রাখবে তাদের জমি সরকারি ভাবে বাজেয়াপ্ত করার। ঐ চিঠিতে আরও উল্লেখ্য করা হয়েছে কোন জমি পতিত রাখা যাবেনা। কৃষি জমি পতিত রাখা আইনের চোখেও একটি অপরাধ। এরপরেও যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি কৃষিকাজে ব্যবহার না করে পতিত রাখেন তাহলে উক্ত জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত আইন ১৯৫০ এর ৯২(১) ধারা মোতাবেক খাসকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজরদারি করা হবে অনলাইনে: শিক্ষামন্ত্রী

আর এই নির্দেশনা জেলা প্রশাসকেরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে করোনা দুর্যোগ থেকে দেশকে বাঁচাতে কৃষির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন সেখানে কিভাবে এত জায়গা জুড়ে কৃষি জমি ধবংস করে পুকুর খনন করা হচ্ছে তা বোধ গম্য নয়। রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন নিয়ে আমাদের বাণী ডট কমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও উপজেলা প্রশাসন এসব অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানালেও বাস্তবায়ন হয়নি। কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এরা কৃষি জমি ধ্বংসের পায়তারা সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে তা বোধগম্য নয়।

আমাদের বাণী ডট কম/০৬ জুন ২০২০/সিসিপি

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •