রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ঘুমন্ত স্ত্রীর মুখে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাওয়া স্বামী মুরাদ হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলার চর আষারিয়াদহ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার মুরাদ হোসেন উপজেলার দেউপাড়া কোমরপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের রাণীনগর গ্রামে বাবার বাড়িতে স্বামীর এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয় কিশোরী বধূ মাহবুবা খাতুন (১৫)। মাহবুবা ওই গ্রামের ট্রাকচালক মাবুদ আলীর মেয়ে।

দেড় বছর আগে ট্রাকের হেলপার মুরাদ হোসেনকে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন মাহবুবা। গত কয়েক মাস ধরে তাদের বনিবনা হচ্ছিল না। এরপর থেকে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিল মাহবুবা।

এসিডে মাহবুবার মুখের বাম অংশ পুরোটা পুড়ে গেছে। এছাড়া গলা ও বাম হাতের কনুই পুড়ে গেছে। এসিড দগ্ধ মাহবুবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

  নওগাঁয় পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ জনের মৃত্যু

এ ঘটনায় মাহবুবার মা শেফালি খাতুন বাদী হয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করেছেন। এতে একমাত্র আসামি করা হয় মুরাদ হোসেনকে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন মুরাদ।

গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম জানান, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মুরাদকে গ্রেফতার করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

ওসি আরও বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করলেও পরে মাহবুবা মুরাদের সঙ্গে আর সংসার করতে চায়নি। তাই বাবার বাড়িতেই থাকত। বৃহস্পতিবার রাতে মাহবুবা তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে একই ঘরে শুয়েছিল। ভোররাতের দিকে জানালা দিয়ে মাহবুবার মুখে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারা হয়। মাহবুবা এবং তার মা জানালার পাশ থেকে মুরাদকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

আমাদের বাণী ডট কম/৩ অক্টোবর ২০২০/পিপিএম