ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকাঃ  আগামী জুলাই মাসের আগে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলংকাসহ প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্য করোনার টিকা দিতে পারবে না ভারত। দেশটি ইতোমধ্যেই বাণিজ্যিক এবং বরাদ্দ-ভিত্তিক টিকার ডোজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। যেসব প্রতিবেশি দেশ এরই মধ্যেই দাম পরিশোধ করেছে সেগুলো পাঠানোও বন্ধ রাখা হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে ভারতে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে ভারত। আগামী ১ মে থেকে সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য করোনার টিকা উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে দেশটি। দেশের চাহিদা মেটাতে এপ্রিলের শুরুতে সর্বশেষ টিকার চালান রপ্তানি করে ভারত। এরপরই আগে দাম পরিশোধ করা থাকলেও রপ্তানি বন্ধ রেখেছে দিল্লি।

আবারও কবে নাগাদ রপ্তানি শুরু হবে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ শ্রিংলা কোনও সময়সীমা জানাতে পারেননি। টিকা রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের কোনও অবনতি হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি, আর আমাদের সব সহযোগীরাই বুঝতে পারছে এই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রয়োজন হলো টিকাদান কর্মসূচি বাড়ানো, দুই-তিনশ’ কোটি, সেকারণে আমাদের টিকাদান তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাড়াতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি আর আমরা যা উৎপাদন করছি তা আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোর জন্য দরকার পড়বে।’

তবে সাউথ ব্লকের অন্তত দুই কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতের টিকা রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রতিবেশিদের সমস্যার বিষয়ে সচেতন রয়েছেন তারা। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক চালান গত ২১ ফেব্রুয়ারির পর আর পাঠানো হয়নি। সেদিন ২০ লাখ ডোজ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী তিন কোটি ডোজ কোভিশিল্ড টিকা পাঠানোর কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ ছয় মাসের মধ্যে সরবরাহ করার কথা। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে ভারত। এছাড়া উপহার হিসেবে দুই ধাপে পাঠিয়েছে আরও ৩২ লাখ। সবমিলে বাংলাদেশে আসা টিকার পরিমাণ ১ কোটি দুই লাখ ডোজ।

  পাঁচ মাসে সড়কে ঝরলো ১৮৯০ প্রাণ

শ্রীলংকা এক কোটি ৫০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড টিকার বাণিজ্যিক আদেশ দিয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ লাখ ডোজ সরবরাহ করেছে ভারত। শ্রীলংকা ও নেপালে সর্বশেষ চালান পাঠানো হয় গত ৬ ও ২৮ মার্চ। তবে সেগুলো পাঠানো হয় কোভ্যাক্স জোটের আওতায়। আর এসব দেশে বাণিজ্যিক টিকা পাঠানো বন্ধ রয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে।

ফলে ভারতের টিকা সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। দ্য হিন্দু বলছে, টিকা সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার ইতোমধ্যে তাদের উদ্বেগ আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লিকে জানিয়েছে। এদিকে গত কয়েক সপ্তাহে চীন দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে টিকা সরবরাহ করেছে। এছাড়া আরও পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে।

আমাদেরবাণী/মৃধা