নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জঃ জেলার শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি তীরে আনা হয়েছে। সোমবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় উল্টো করে লঞ্চটি নদীর পূর্বপারে তীরে আনা হয়। এরপরই লঞ্চটির ভেতর থেকে মৃতদেহ বের করতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা।

দুপুর ১টার দিকে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, লঞ্চের ভেতর থেকে আরও ১৫ টি মৃতদেহ বের করে আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনটি ও চারজন নারীও রয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা চলছে। আরও কয়েকটি মৃতদেহ ভেতরে রয়েছে। এরআগে রাতেই পাঁচ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে লঞ্চডুবিতে ২০  মৃতদেহ উদ্ধার হলো।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, উদ্ধার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। লাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে অনেক লাশ ভেসে গেছে বলে ধারণা করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম বেপারী বলছেন, লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর একটি মরদেহ হাসপাতাল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর বাকি চারটি মরদেহ উদ্ধারের পর সেগুলো ঘটনাস্থল থেকেই স্বজনদের কাছে দিয়ে দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ২০ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যায় লঞ্চটি। এমভি রাবিতা আল হাসান নামে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে ৫টা ৫৬ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

  খোকসায় জোনাকির আলো'র পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

ঘটনার সময় নদীর তীর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসকে-৩ নামে একটি কার্গো জাহাজ বেপরোয়া গতিতে লঞ্চের পেছন দিকে সজোরো ধাক্কা দিলে সেটি দুই ভাগ হয়ে ডুবে যায়। ঘটনার পর লঞ্চে থাকা বেশ কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ওই সময় নদীর ঘাট থেকে বেশ কিছু নৌকা ও ট্রলার গিয়ে ২৫-৩০ জনকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পরপর ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

লঞ্চের যাত্রী দিপু বলেন, তিনি তার মা মহারানীকে মুন্সীগঞ্জে পৌঁছে দিতে লঞ্চে করে যাচ্ছিলেন। লঞ্চটি নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছাকাছি যাওয়ার পর পেছন থেকে এসকে-৩ নামে কার্গো জাহাজটি লঞ্চ বরাবর দ্রুত গতিতে আসতে থাকে। ওই সময় লঞ্চের পেছনে থাকা যাত্রীরা হাত নেড়ে লঞ্চ বরাবর না এসে পাশ দিয়ে যেতে ইশারা করেন। কিন্তু কার্গো থেকে লঞ্চটিকে সরে যেতে বলা হয়। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই কার্গো জাহাজটি লঞ্চের পেছনে এসে সজোরা ধাক্কা দিলে সেটি ভেঙে ডুবে যায়।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক (বন্দর) মোবারক হোসেন বলেন, টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়ার আগে টার্মিনালের ভয়েজ অব ডিক্লারেশন অনুযায়ী ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন।

আমাদেরবাণী/মৃধা