গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে এখন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজমান। কভিড-১৯ পরিস্থিতি খারাপ, মানুষের মুখে খাবার নেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের ভুল নীতি। গণপরিবহন চলছে না, অথচ প্রাইভেট গাড়ি চলছে। তবে ঈদে বাড়ি যেতে হলে মানুষের কভিড পরীক্ষা করে বাড়ি পাঠানো উচিত।’

গতকাল কভিড পরিস্থিতির এ সংকটকালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল ঢাকা শহরের ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, তোপখানা রোড, হাজারীবাগ ও বাড্ডা এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় দুস্থ গৃহকর্মী, অসহায় হকার-শ্রমিক, মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ কর্মহীন সাংবাদিকদের মাঝে মোট ৮২০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ২৪ কেজি ওজনের প্যাকেটে একটি মাঝারি পরিবারের ১৫ দিন চলার মতো খাদ্যসামগ্রী রয়েছে। ঈদের আগে আরও ৫০০ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মানুষের জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রায় ১৫ দিনের খাবার আছে। লোক দেখানো দান করে লাভ নেই। ধনাঢ্যদের পাশাপাশি আমাদের কর্মীরাও এক দিনের বেতন দান করেছে।’

  এ সরকার দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদের পাহারাদার: খালেকুজ্জামান

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে না। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। ওনার চিকিৎসা হলো মুক্তি। মুক্তি দিলে উনি কোথায় চিকিৎসা করবে সেটা ওনার স্বাধীনতা। আমাদের অতীতের প্রতিহিংসা, ভুল স্মরণ না রেখে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানসিক শক্তি না থাকলে সুস্থ হওয়া যায় না। সেই জন্য আমি আহ্বান করছি ছাত্রদের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকেও মুক্তি দেয়া হোক। ওনার কিছু হয়ে গেলে পরে আক্ষেপ করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি বিএনপিকে জনগণের সমস্যা নিয়ে তা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের আরও বেশি করে আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুসহ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্য কর্মকর্তারা।