Shadow

দেশে করোনা বিষয়ে বাড়ছে উদাসীনতা

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনা। সার্স গ্রুপের নতুন একটি ভাইরাস। ভয়, আতঙ্ক ও মৃত্যুর আরেক নাম এই ভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। বর্তমানে পুরো বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা। গত মার্চের শুরুতে দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যু ঘটে। করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে ৩০ মে পর্যন্ত ৭ দফা সাধারণ ছুটি বর্ধিত করা হয়।

এই সময়টাতে স্কুল-কলেজ, অফিস, গণপরিবহন ও কারখানা সব বন্ধ রাখা হয়। ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ ছাড়া সব কিছু খুলে দেওয়া হয়। তবে এই সময়টাতে সবাইতে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সবার মাঝে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, বর্তমানে সে প্রবণতা বাড়ার চেয়ে হ্রাসই পাচ্ছে। প্রথমদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকলেও নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বাড়ার পর থেকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

গত জুনের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ থেকে ৪ হাজারের মধ্যে থাকছে। তবে আক্রান্তদের মধ্য থেকে প্রায় অর্ধেকই সুস্থ হয়ে গেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে এতথ্য জানা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মানুষের মাঝে করোনা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। তারা মনে করছেন দেশে করোনা বলে কিছু নেই। মসজিদ ছাড়া কোথাও মানা হয় না স্বাস্থবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, গণপরিবহনে সেই পূর্বের মত চলাচল করছে মানুষ। কারো মুখে মাস্ক নেই, থাকলেও তা মুখ থেকে নামানো, জীবাণুনাশকের ব্যবহারের প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করেন না। এমনকি ব্যবহৃত মাস্ক ও গ্লাভসও নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে না ফেলে রাস্তাঘাটসহ যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। যত্রতত্র পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস থেকে ছড়াতে পারে সংক্রমণ।

এ বিষয় নিয়ে বিবিসি বাংলাসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়ার জন্য বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মানুষ যদি করোনার সংক্রমণ রোধে নিজে থেকে সচেতন না হয় তাহলে ভবিষ্যতে খুবই খারাপ অবস্থা অপেক্ষা করছে সবার জন্য। কারণ সচেতন না হলে সংক্রমণ বাড়বে বৈ কমবে না। মানুষের আচরণ দেখলে মনে হচ্ছে করোনাকে তারা পাত্তাই দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা করোনার সচেতনতায় বলছে যে বাইরে গেলে ঘরে প্রবেশের পূর্বে পুরো শরীরে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে ঘরে প্রবেশ করা। যাতে করে করোনার সংক্রমণ রোধ করা যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষই তা মানছেন না।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের অর্ধেক সংখ্যাই অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকায়। ঢাকাকে বলা হয় করোনার হটস্পট। গত কয়েকদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, তেজগাঁও এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে করোনা পূর্বে তারা যেভাবে চলাফেরা করতেন এখনও তারা সেভাবে চলাফেরা করছেন। কারওয়ান বাজারে সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা একজন আরেকজনের গায়ের ওপর পড়ে কেনাকাটা করছেন। শপিংমল, মার্কেটগুলোতে জীবাণুনাশক ব্যবহারের কথা বলা থাকলেও সেটি চোখে পড়েনি। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই এ ব্যাপারে একেবারেই অসচেতন। তাদের ভাষ্য মতে বর্তমানে করোনা আমাদের দেশে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তাই কিছু হবে না। তেজগাঁওয়ের বিশেষ করে বেগুনবাড়ির আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এপ্রিল-মেতে যারা বাসা বাড়িতে সব সময় জীবাণুনাশক ব্যবহার করতেন সে পরিমাণটা কমিয়ে দিয়েছেন। সেখানে পরিবার নিয়ে বাস করা আল-আমিন, কাউসার, সাইফুলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করলে এক প্রতিবেদককে জানান, জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে আর ভাল লাগে না। বিরক্তিকর। করোনা হলে হোক। ওই এলাকার ব্যাচেলর বাসাগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। এক রুমে থাকেন কয়েকজন। চাকুরির সুবাদে প্রতিদিন বাইরে গেলেও রুমে প্রবেশের সময় আগে যেভাবে জীবাণুনাশক ব্যবহার করতেন বর্তমানে তারা সেভাবে জীবাণুনাশক ব্যবহার করেন না।

  বাজেটে বাড়ছে সিগারেটের দাম: বেনসন ২০, গোল্ডলিফ ১৬ সর্বনিম্ম সিগারেটের দাম ৯ টাকা

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর পাশের জেলা প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জে। বলা হয় করোনার সূতিকাগার জেলা নারায়ণগঞ্জ। সারাদেশে করোনার বিস্তার ঘটেছে এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই। কারণ এখানকার গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কল-কারখানার কর্মীরা সাধারণ ছুটির সময় নারায়ণগঞ্জ থেকেই নিজ জেলায় গিয়েছিলেন। গত কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকার সর্দারপাড়ার কয়েকটি আবাসিক বাসায় গিয়ে দেখা গেছে বাইরে থেকে এলে জীবাণুনাশক না ছিটিয়ে তাকে ঘরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তাদের কাছে জীবাণুনাশক আছে কি না জানতে চাইলে সেখানকার শামসুল হক, আকতার, সাইদুল জানান, করোনা যদি হয় তাহলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করলেও হবে, না করলেও হবে। তাই অতিরিক্ত কাজ হিসেবে এখন বাইরে থেকে আসার পর জীবাণুনাশক ব্যবহার করি না। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হয় কি না জানতে চাইলে তারা জানান মাঝে মাঝে তা করা হয়।

শুধু রাজধানী ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জ নয়। করোনার অন্যতম আরেকটি হটস্পট সুদূর নোয়াখালীতেও মিলেছে এমন চিত্র। নোয়াখালীর মাইজদী বাজার, টিভি সেন্টার, অনন্তপুর, জয়কৃষ্ণপুর এলাকায়ও করোনা নিয়ে সচেতন নন সাধারণ মানুষ। শুধু মসজিদেই দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে। টিভি সেন্টার এলাকার আরাফাত কাজ করেন মাইজদীর একটি ওয়ার্কশপে। তার বাবা জয়নাল মিয়া মাইজদী বাজার পানের দোকান করেন। তারা যখন বাড়িতে ফেরেন ঘরে প্রবেশ করার আগে তাদের জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে তারা বলেন করোনা এখন পর্যন্ত ধনী লোকদের বেশি আক্রান্ত করেছে গরিবদের নয়। তাই এটা নিয়ে বেশি মাথা না ঘামালেও চলবে। আক্রান্ত না হলেও সচেতন হতে দোষ কোথায়- জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জোবায়ের আনাম চৌধুরী খোলা কাগজকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিদিনের বুলেটিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে তা একই জায়গায় স্থির। নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ না বৃদ্ধির কারণে এমনটা হচ্ছে বলে আমি মনে করি। আর এই কারণে এবং জীবিকার তাগিদে মানুষের মাঝে করোনা নিয়ে একটা গা ছাড়া ভাব দেখা গেছে। সংক্রমণ রোধে মানুষকে নিজ উদ্যোগে সচেতন হতে হবে। কারণ তিনি আক্রান্ত হলে তার পরিবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আর সঠিক চিত্র না থাকার কারণে বোঝা যাচ্ছে না আমরা করোনা সংক্রমণের কোন ধাপে আছি। তাই আমাদের উচিত করোনাজয়ী অন্যান্য দেশের মত জীবন ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনের সর্বশেষ (১৭ জুলাই ২০২০)  গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫১জনের মৃত্যু হয়েছে।  একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪ জন। মোট শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৬২ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন এক লাখ আট হাজার ৭২৫ জন।

আমাদের বাণী ডট কম/১৭  জুলাই ২০২০/পিপিএম

সৈয়দপুরের বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •