ঢাকাঃ করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কার জন্য সতর্ক হতে বলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাস্থ্য বিভাগও নাকি তাদের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। জনসচেতনতায় বিভিন্ন পদ্ধতি করা হচ্ছে অবলম্বন। বিভিন্ন স্থানে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ করা হয়েছে চালু। অথচ ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা চিকিৎসক ও নার্সদের নেই সরকারিভাবে কোয়ারান্টিনের ব্যবস্থা। করোনার প্রথম দিকে যে সব হোটেলে এ ব্যবস্থা চালু ছিল, তাও বহুদিন থেকে বন্ধ। ফলে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে সরাসরি ফিরতে হচ্ছে বাসায়। মানসম্মত পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্টও (পিপিই) অপ্রতুল। সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে শঙ্কিত তারা।

মাস তিনেক আগেও করোনায় আক্রান্তদের সেবা দেওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্সদের হোটেলে কোয়ারান্টিনে থাকার ব্যবস্থা ছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে পরে তা বাতিল করেছে। অথচ করোনার হঠাৎ থাবা বিস্তারকালে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী না পাওয়ায় অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হন। দ্বিতীয় ধাক্কায়ও সেই একই শঙ্কায় আছেন তারা।

অনেকের অভিযোগ, প্রস্তুতির যে কথা বলা হচ্ছে তা শুধুই মুখে মুখে। প্রথম আক্রমণে যেমন বলা হয়েছিল, তেমনই। তাদের অভিযোগ, প্রথম ধাক্কা মোকাবিলায় মাস্ক আমদানিতেও ধরা পড়ে দুর্নীতি। অনেক পিপিই ছিল ব্যবহারে অযোগ্য। করোনা পরীক্ষা ও কোয়ারান্টিন সেন্টারের নামেও হয়েছে অনিয়ম। ধরাও পড়েছেন অনেকে। এর কারণÑ বায়োবীয় পূর্বপ্রস্তুতি। আগে থেকে দৃশ্যমান প্রস্তুতি না রাখলে এবারও ঘটতে পারে বিপত্তি। ফলে আগে থেকেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতির দাবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব স্বাস্থ্যসেবীদের।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, চিকিৎসক-নার্সদের কোয়ারান্টিনের জন্য বরাদ্দের হোটেলগুলোতে এখন আর তাদের থাকার ব্যবস্থা নেই। ফলে নিজ উদ্যোগেই থাকতে হচ্ছে। অথচ একটি সূত্র বলছে, করোনায় সেবা দিতে গিয়ে ১০৫ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। গত ১১ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮৭৫ জন চিকিৎসক, ১ হাজার ৯৭২ জন নার্স ও ৩ হাজার ২৭৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী। স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ থেকে জানা গেছে- এ পর্যন্ত ৯ জন নার্স মারা গেছেন। সঠিক কোয়ারান্টিনের ব্যবস্থা না থাকায় এসব পরিবারের হাজার হাজার সদস্য হয়েছেন করোনায় আক্রান্ত। মারাও গেছেন অগণিত।

  আক্রান্ত ১ কোটি সাড়ে ৮৪ লাখ: করোনায় মৃতের সংখ্যা ৭ লাখ ছুঁইছুঁই

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবিকা জানান, হোটেলে কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা বাতিলের পর ঢাকায় একা বসবাসকারী এই সেবিকা বিপাকে পড়েন। হাসপাতালে চাকরি করেন জেনে বাসার মালিকরা ভাড়া দিতে জানান অনিচ্ছা। অনেক অনুরোধে বান্ধবীদের বাড়িতে বাড়িতে কাটিয়েছেন এই তিন মাস। অবশেষে ডিসেম্বরে উঠতে পারবেন ভাড়া বাসায়।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, শীতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা আসতে পারে। অথচ তারা (চিকিৎসকরা) সুরক্ষিত না। প্রথমের মতো এবারও সেই একই ভীতি কাজ করছে। কোনো হাসপাতালেই এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী নেই।

তিনি বলেন, ‘আগে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বরাদ্দ থাকা হোটেলে যেতেন চিকিৎসকরা। এতে তাদের পরিবারের সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা ছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা বাতিলের পর পরিবারের সদস্যরাও এখন অরক্ষিত।’

এদিকে জানতে চাইলে দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাতিল করা হোটেল পুনরায় বরাদ্দ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন পড়লে আবার বরাদ্দ নেওয়া হবে।’