Shadow

ধর্ষণে বান্ধবী অন্তঃসত্ত্বা,ফেঁসে যাচ্ছেন তাহিরপুরের ইউএনও

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। মাত্র কয়েকদিন হয়েছে তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বদলি হয়ে এসেছেন। হঠাৎ করেই তার বদলিটা যেমন রহস্যজনক ও তেমনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে নতুন যোগদান করেই ক্ষমতার অপব্যবহার করার। তাছাড়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে অবৈধ সর্ম্পক জানাজানি হওয়ায় পর ব্যাপক সমালোচনা চলছে উপজেলাজুড়ে। বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ তার আগের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু শ্বশুর পেশাদার উকিল হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ বিলম্বিত হচ্ছিল। এদিকে নতুন বান্ধবীর সঙ্গে সংসার করার তর সইছিল না তার। শেষ পর্যন্ত পৃথক বাসা নিয়ে সংসার শুরু করেন বিয়ের আগেই। এ অবস্থয় গর্ভবতী হয়ে পড়েন তার বান্ধবী। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় তাকে চট্টগ্রাম থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বদলি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ময়মনসিংহের ওই নারীর (বান্ধবী) লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে বান্ধবীর মাধ্যমে আসিফ ইমতিয়াজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে জানতে পারেন তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকদিন ফোনে কথা হয়। এরপর এপ্রিল মাসে তার সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন। প্রথম সাক্ষাতেই তাদের বিয়ে নিয়ে কথা হয়। এরপর বিয়ের কথা বলে ইমতিয়াজ ভাড়া বাসা, হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে নিয়ে থাকেন। এরই মধ্যে তার নামে অ্যাকাউন্ড খুলে সেখানে এক মাসেই ২০ লাখ টাকা লেনদেন করেন ইমতিয়াজ।

এরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আসিফ মিরপুর-৬ নম্বরে একটি বাসা ভাড়া নেন। বাসা নেয়ার খবর দেয়ার পর তিনি ঢাকায় আসেন। ওই বাসায় আসিফের বোন-ভগ্নিপতির সঙ্গে কথা হয়। তাদের সামনেই মে মাসের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আসিফ।

ওই সময় আসিফ জানান, তার আগের শ্বশুর আইনজীবী হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় একটু সময় বেশি লাগছে। যেদিন ডিভোর্স পেপার হাতে পাবেন পরের দিনই তাকে বিয়ে করবেন। এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং তার বোন ও ভগ্নিপতি সাক্ষী থাকায় আসিফের সঙ্গে থাকতে রাজি হন তিনি। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নস্থানে একসঙ্গে থাকতেন।

ইউএনও আসিফের বান্ধবী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমি গর্ভবতী হই। এটা তাকে জানানোর পরই সে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। ওই সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেয়। এক সপ্তাহ পরই সে আমাকে ফেসবুকসহ সব যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লক করে দেয়। তার সঙ্গে আমি কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। নানাভাবে তাকে ম্যাসেজ দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও পারিনি। পরে ডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনা বলার পর তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন এবং একজন এডিসিকে দায়িত্ব দেন।

  দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৪০ জন, মোট শনাক্ত ৪৯৯৮

এডিসি আসিফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে পুরোপুরি অস্বীকার করে। আমি সব ডকুমেন্ট দেয়ার পর এডিসি তাকে চট্টগ্রাম থেকে বদলির সুপারিশ করেন। তার সুপারিশ মতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। জানুয়ারি মাসে তার সঙ্গে আমার শেষ সাক্ষাৎ হয়। এরপর সে দেখা করতে চাইলেও আমি করিনি। এখন পর্যন্ত নানাভাবে সে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে তাহিরপুরে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে। তিনি অফিস না করে বাসায় বসে ফাইল ও জরুরি কাগজপত্র দেখেন। মাঠে কম যান।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নতুন ইউএনওকে অফিস করতে দেখা যায় না। বেশিরভাগ সময় তিনি বাসায় কাজ করেন। উনাকে ফোন দিলেও ফোন বেশিরভাগ সময় ধরেন না। তাছাড়া তার নামে যেসব শুনছি আর বর্তমানে যা দেখছি তাতে তার জন্য আমাদের উপজেলার নাম নষ্ট হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, আমি ইউএনওকে ডেকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (উপপরিচালক স্থানীয় সরকার) তদন্তভার দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ ইমতিয়াজের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এরপর তিনি প্রত্যুত্তরে লিখেন- অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবো।

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *