নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকাঃ  দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই, নেই সাংগঠনিক কার্যক্রম। কমিটি ছাড়াই চলছে মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটির নেতাদের নেতৃত্বে নামে মাত্র সাংগঠনিক কার্যক্রম। বলছিলাম নর্থ আমেরিকা দেশ কানাডা ছাত্রলীগের কথা। এতে নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কা করছেন দেশটিতে অধ্যয়নরত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আন্দোলন সংগ্রামে ও দেশবিরোধী যে কোন চক্রান্তের বিরুদ্ধে কানাডা ছাত্রলীগকে সামনের কাতারে দেখা গেছে সবসময়। আজ সেই ছাত্রলীগ নেতৃত্ব শুন্য। বিরাজ করছে দৈন্যদশা। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার ফলে কানাডায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি সাধারণ ছাত্ররা ছাত্রলীগের প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারাচ্ছে। এই অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে সংগঠনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ও সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। জন্মলগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সাহসী ভূমিকা ছিল এই সংগঠনের।

কালের বিবর্তনে নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন কলহ ও বিরোধ, দলের অভ্যন্তরীণ রেষারেষি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। তবে বিভিন্ন সময় সংগঠনটির ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বছরের পর বছর কমিটি না হওয়া বহির্বিশ্ব ছাত্রলীগ। মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটির পদ বিক্রি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির নেতৃবৃন্দ। চলতি বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কয়েকটি জেলা কমিটির সম্মেলন ও কমিটি ঘোষণা হলেও বহির্বিশ্ব ছাত্রলীগ নিয়ে যেন কোন মাথা ব্যথা নেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির।

ঠিক কি কারনে বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সুখে দুঃখে পাশে থাকা বহির্বিশ্ব ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব আসছে না তা জানেন না কেউই।

  ৪৫ দিনে আমিরাত থেকে দেশে আসল শতাধিক প্রবাসী শ্রমিকের লাশ

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কানাডা ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশরত্নের হাতকে শক্তিশালি করতে আমরা বহিঃবিশ্বের ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছি । তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আমাদের এই ইউনিটিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। বহির্বিশ্বের অনেক দেশের কমিটি নাই । আবার অনেক দেশে ছয় বছর আগের কমিটি এখনো চলে । আর এভাবে চলতে থাকলে বহিঃবিশ্ব ছাত্রলীগ ধ্বংস হয়ে যাবে ।

এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই ছাত্র সংগঠনটির বিশ্বের বুকে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরে বহির্বিশ্ব ছাত্রলীগ। ইউরোপ আমেরিকার অধিকাংশ দেশই নেতৃত্ব শূন্য রয়েছে সংগঠনটি। কোথাও নেতৃত্ব থাকলে তা পাঁচ সাত বছরের পুরোনো। তবে কি কারণে বহির্বিশ্ব ছাত্রলীগের কমিটি হচ্ছে না তা জানতে কথা হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ আন্তর্জাতিক বিষয়ক এস এম শওকত হোসেন বলেন, আমরা খুব শিঘ্রই বহিঃর্বিশ্ব ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। মহামারি করোনার কারণে একটু ঢিলেঢালা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারনে কমিটি দিতে একটু সময় লাগছে। তবে অচিরেই মেয়াদ উত্তীর্ণ দেশে বিদেশে সকল কমিটির সম্মেলন করা হবে।

উল্লেখ্য, কানাডা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবাইদুর রহমানককে কানাডা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইয়া আশিক দীর্ঘ দুই বছর ধরে বাংলাদেশে চলে এসেছে।