ঢাকাঃ মানিকগঞ্জের পৌর নির্বাচনের ভোট আগামী ২৮ ডিসেম্বর। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর)   আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতিকে মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমাদান শেষ হয়েছে। পৌরসভার এই নির্বাচনে এবারেও মানিকগঞ্জের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার মনোনয়ন ক্রয় করেছেন নৌকাকে পরাজিত করে ও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা মানিকগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম।

অতীতে বাম রাজনীতি করা গাজী কামরুল হুদা সেলিম আওয়ামীলীগের সুময়ের পথিক। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম এবারও পৌর মেয়র নির্বাচনে দলের হয়ে কিংবা বিদ্রোহী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরবাসী কপাল আবার পুড়বে বলে মনে করছে পৌর সভার নিন্ম আয়ের মানুষেরা।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এবারেও দলীয় মনোনয়ন না পেলে গাজী কামরুল হুদা সেলিম দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন। তারা জানান, ক্ষমতার স্বাদ ও অধিষ্ঠিত চেয়ার যখন টাকা আয়ের ব্যাংকে পরিণত করতে পেরেছেন সেলিম তখন দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে না সে। যে করেই হোক আবার এই চেয়ার পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

আগের মেয়র রমজান আলীর ঘুষ ও দুর্নীতির ফলে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরলে  মানিকগঞ্জ পৌরবাসীকে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে ভোট নিয়েছিলেন পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম  কিন্তু কথায় ও কাজে মিল পায়নি জনগণ। ঘুষ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও পারিবারিকরণেই কেটে গেছে পৌর মেয়রের পাঁচ বছর।

জানা গেছে, ৯টি ওয়ার্ড ও ৭৫টি মহল্লা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ পৌরসভা।  দুই যুগ ধরে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবা ও জীবন-মানের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি এখানে। পৌরবাসীকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আশ্বাস দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেলেন  মো. রমজান আলী। তিনি পৌরবাসীকে দেয়া প্রতুশ্রুতি পূরণ করতে না পারায় ২০১৬ সালের পৌর নির্বাচনে পৌরবাসী মেয়র হিসেবে তাঁদের ভোটের মাধ্যমে নৌকাকে পরাজিত করে নির্বাচিত করে বর্তমান মেয়র আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী কামরুল হুদা সেলিমকে। বলে রাখা ভালো যে, গাজী কামরুল হুদা সেলিম মানিকগঞ্জ পৌর সামাজিক কল্যাণ সমিতির ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে ২০১৬ সালে এই ব্যানারেই তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে গাজী সেলিমের অসাংগঠনিক এবং একঘুয়েমির ফলে এই সংগঠনটিকে সে আর ধরে রাখতে পারেনি। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হওয়ার কারনে পৌরবাসীদের মধ্যে তাঁর প্রতি বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

  করোনাভাইরাসে নতুন মৃত্যু ২৮ জনের আক্রান্ত ২৭৭২ জন

হ্যালোবাইক নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও পারিবারিক করণ, নিরবিচ্ছিন্ন পানি বিদ্যুৎ গ্যাস সরবরাহ করতে না পাড়া, রাস্তা ঘাটের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা বর্তমানে প্রশ্নবিদ্ধ।

অতীতে বাম রাজনীতি করা সেলিম মানিকগঞ্জের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন পৌর নির্বাচনে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় তাকে পদ হারাতে হয়।

এদিকে পৌর নির্বাচনে আগে তিনি  ২৭টি সেবা উল্লেখ করে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হবার পর তাঁর অধিকাংশই এখনও পূরণ করতে পারেনি। নতুন করে আবারও ইশতেহার দিয়ে জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

মানিকগঞ্জ পৌরবাসী বরাবরই বিভিন্ন মেয়র প্রার্থীর আশ্বাসে তাঁদের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষে ভোট দিয়ে ঠকেছেন। প্রতিবারই নতুন কাউকে তারা মেয়র নির্বাচিত করেছেন পৌর এলাকা উন্নয়ন হবে এই আশায়। অতীতের ২ জন মেয়রের সীমাহীন দুর্নীতির কারনে পৌরবাসী অতিষ্ঠ।  পৌরবাসীদের একটাই চাওয়া গাজী সেলিমের মত দুর্নীতিবাজরা যেন আর পৌর সভায় অধিষ্ঠিত না হতে পারে সেটাই তাঁদের চাওয়া।