কৃষি জমিতে পুকুর খনন

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজশাহী;  করোনা মোকাবেলায় প্রশাসনের সকল কর্মকর্তার যখন ব্যস্ত ঠিক তখন রাজশাহী জুড়ে চলছে অবৈধ পুকুর খনন। বিশেষ করে জেলার দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাগমারায় খনন হচ্ছে ব্যাপক পুকুর। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় রাতদিন সমান তালে চলছে এ কাজ। পুকুর খননকারীর তালিকায় রয়েছেন, স্থানীয় ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দলের নেতা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীরা। থানা পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি অফিসকে ম্যানজ করে পুকুর খনন কাজ চালাচ্ছে তারা। তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে জেলার তানোর, পবা ও গোদাগাড়ীতে কৌশলে চলছে পুকুর খনন। আর কিছু কিছু স্থানে সম্প্রতি উচ্চ আদালতে রিট করে অবৈধ পুকুর খনন চালছে। এ নিয়ে মোটা অংকের অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তা মানতে নারাজ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আদালতের রিট থাকায় এ নিয়ে কিছুই করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানাযায় রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার ৫নং শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পমপাড়া বিলে প্রায় ৬০বিঘা তিন ফসলী কৃষি জমিতে চলছে অবৈধ ভাবে পুকুর খননের কাজ। স্থানীয় প্রশাসন কে ম্যানেজ করে এই অবৈধ পুকুর খননের কাজ করছে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল। এসব অবৈধ পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এস্কেভেটর ভেকু মেশিন যা জমির জন্য মারাত্মক ক্ষতি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে বাড়ির আশপাশে কোন জমিই ফাঁকা রাখা যাবেনা। সেখানে ফসলি জমি কেটে মাটি নেয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। আর কৃষদের বেকার করে শতশত বিঘা ফসলি জমি খনন করে তৈরী করা হচ্ছে পুকুর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকরা জানান, এসব এসব অবৈধ পুকুর খননের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিউজ্জামান কাছে জানানো হলে তিনি পুকুর খনন বন্ধ রাখার কথা বলে ছিল। কিন্তু অবৈধ পুকুর খনন কারীরা গায়েবী ক্ষমতার জোড়ে কিছুতেই থামছেনা, আমাদের ফসলী জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করা হচ্ছে আমরা শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারই কৃষি নির্ভরশীল পরিবার। আমাদের কৃষি জমি নষ্ট হয়ে গেলে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি এসব অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করা হক না হলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব আমরা বলে জানান তারা।

  মতলব উত্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা জানান, তাদের নিজেদের জায়গা-জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষবাস করেন। এতেই সংসার চলে যায় তাদের। কিন্তু এখন আর তা হচ্ছেনা। বিলজুড়ে পুকুর খননে কোথাও চাষের জায়গা অবশিষ্ট নেই। এখন না পারবেন চাষ করতে, না পারবেন কারো কাছে বিক্রি করতে ।সর্ব শেষে তারা অবৈধ পুকুর খননকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, কয়েক বছর ধরে তার ইউনিয়নে শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে বিলগুলোর পানি প্রবেশ ও বের হবার নালা। এতে জলাবন্ধতায় নষ্ট হচ্ছে চাষাবাদ। প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় তা বেড়েই চলেছে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে ফসলি জমি আর অবশিষ্ট থাকবেনা।

অবৈধ পুকুর খননের বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিউজ্জামান এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল-জরিমানা এবং ভেকু মেশিনের ব্যাটারি জব্দ করে থাকি। এসব অবৈধ পুকুর খননে বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ভূমিকা পালন করে থাকে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, আইন অমান্য করে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মেনেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ জেলা-জরিমানা করা হচ্ছে দোষীদের।

আমাদের বাণী ডট কম/২৭  মে ২০২০/সিসিপি