নিজস্ব সংবাদদাতা,  সিরাজগঞ্জঃ জেলার উল্লাপাড়ায় চেংটিয়া গ্রামে বংশ পরস্পরায় কর্ণধর (কোনাই) সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর বসবাস করছে। এদের আদি বংশীয় পেশা হলো বনের বেত দিয়ে গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করা। এখন আগের দিনের মতো বেতের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা নেই। এরপরও বয়সীরা বংশীয় পেশায় আছেন। জীবন-জীবিকায় কম বয়সীরা বংশীয় পেশা ছেড়ে নানা পেশায় কাজ করছেন।

উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের চেংটিয়া গ্রামে কর্ণধর সম্প্রদায়ের ৩৫ পরিবার বসবাস করছে। এরা নিজেদের ভিটেতেই বসবাস করছে। যৌথ পরিবার ভেঙে পরিবার সংখ্যা বাড়ছে। সব ক’টি পরিবার মিলে সদস্য সংখ্যা প্রায় দেড়’শ জন হবে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠোনে এ সম্প্রদায়ের মাঝ বয়সী ক’জন গৃহবধু বেতের কাজ করছে। প্রায় ৮৩ বছর বয়সী অধীর দাস এখন বয়সের ভারে বেঁতের কাজ করেন না। তিনিসহ আরো ক’জন প্রতিবেদককে জানান, এখানকার বসতিদের বসতভিটে ছাড়া আবাদি জমিজমা নেই। এদের মধ্যে তিনটি পরিবারের কোনো বসত ভিটে নেই। পরিবার তিনটি প্রধান হলো- সুনীল দাস, মনো দাস ও সোনা দাস। এরা স্থানীয় মন্দিরের জায়গায় ঘর তুলে কোনো মতে বসবাস করছে। এখানকার কর্ণধর সম্প্রদায়ের প্রবীনেরা জানান, আগের দিনে গৃহস্থালীর কাজে বেতের তৈরি ধামা, হাইটা, কাঠাসহ নানা সামগ্রী ব্যবহার করা হতো। এরা নিজেদের বাড়িতে এ সব সামগ্রী তৈরি এবং বিক্রির জন্য বিভিন্ন গ্রামে যেতেন। তাদের কাজে পরিবারের নারীরা সহযোগিতা করতো। এখন সে সবের চাহিদা গৃহস্থ পরিবারগুলোর কাছে কমে গেছে। এখানকার বেশি বয়সীরা পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। এদের পরিবারের অনেকেই দিন আয়ের নানা পেশায় কাজ করছে। এদের মাঝে শিক্ষার হার এখন বাড়ছে। এদের পরিবারের ছেলে মেয়েরা পড়ালেখায় প্রাইমারি ও হাই স্কুলে যাচ্ছে। এখানকার কর্ণধর সম্প্রদায়ের নিজস্ব বসত ভিটে হীন সুনিল দাসের ছেলে বিষ্ণ দাস এইচ এস সিতে পড়ালেখা করছে। সে সব চেয়ে বেশি শিক্ষিত বলে জানানো হয়।

  দৌলতদিয়ায় এক পাঙ্গাশের দাম ৩৮ হাজার টাকা!

বাঙ্গালা ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, তার ইউনিয়নের চেংটিয়া গ্রামের কর্ণধর সম্প্রদায়ের গরীব পরিবারগুলোকে সরকারি বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়ে থাকে। একাধিক জনকে বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এদের বিষয়ে তিনি সার্বিক খোজ খবর সব সময় রাখেন।

আমাদেরবাণী/মৃধা