আসন্ন বাজেট

আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট ঘোষণার আগে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার এমপিওভুক্তির (মান্থলি পে অর্ডার) ঘোষণা আসছে না। বাজেটে এমপিওভুক্তির কথা থাকবে এবং বরাদ্দও রাখা হবে। তবে ৯ বছরের বন্ধ্যত্ব কাটবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়।

স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তিসহ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী (২০১৯-২০২০) অর্থ বছরের জন্য ৬১ হাজার ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাইবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই অর্থ ব্যয় করা হবে শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম আপডেটের কাজে। এই অর্থ গতবারের চেয়ে ৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরে প্রস্তাব করা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সব মতের শিক্ষক সংগঠনগুলো এবং সর্বমহলের দীর্ঘ দিনের দাবি ও সর্বশেষ নন-এমপিও শিক্ষকদের গত বছর লাগাতার আন্দোলনের মুখে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। নানা ধাপে যাচাই-বাছাই ও নীতিমালা সংশোধন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইও শেষ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। এ ঘোষণা সরকারের সর্বোচ্চপর্যায় থেকেই দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আসন্ন বাজেটে ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ স্কুল ও কলেজ এবং বাকি ৫০০টি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণকে সরকার সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রদানের বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হবে। বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৮-১৯) নতুন এমপিওর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। নানা বিবেচনায় সে টাকা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। গত সংসদ নির্বাচন এবং সরকারের নানা হিসাব-নিকাশে ওই তহবিল আর ব্যবহার করা হয়নি। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য এ তহবিলও বরাদ্দ করা অর্থের সাথে যুক্ত করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে রয়েছে সরকার। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘোষণা হবে। তবে ঘোষণা যখনই হোক আগামী জুলাই মাসে এটি কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের হাতে বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদরাসা এবং কারিগরি মিলে মোট নয় হাজার ৪৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এগুলোকে যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচন করার কাজও শেষ হয়েছে।

  নতুন নীতিমালায় এমপিও'র চূড়ান্ত তালিকায় ২ হাজার ৭৩০ প্রতিষ্ঠান

সূত্র জানান, এখন মন্ত্রণালয়ের এবং সরকারের সর্বোচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেই যাচাই-বাছাই করা ‘চূড়ান্ত তালিকা’ পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে কোন প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া হবে।

দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর (২০১৯) ‘বিশেষ ও থোক বরাদ্দ’ দিয়ে এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে গত বছরের ১৪ জুন জারি করা হয় এমপিও নীতিমালা বা জনবল কাঠামো-২০১৮। যদিও এ নীতিমালার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে সবমত-পথের শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের নানা ধরনের আপত্তি রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে শিক্ষক অসন্তোষের আশঙ্কায় এমপিওভুক্তির কাজ কৌশলে পিছিয়ে দেয়া হয়। কেননা, অবেদন যাচাই শেষে দেখা যায়, শর্ত পূরণ করেছে মাত্র ২ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা। যার মধ্যে স্কুল-কলেজ প্রায় ১২ শ’, মাদরাসা ৫ শ’ এবং সাড়ে ৩ শ’ কারিগরি প্রতিষ্ঠান। অপর দিকে এমপিওর জন্য আবেদন করেছিল প্রায় সাড়ে ৯ হাজার প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনের আগে সাড়ে সাড়ে ৭ হাজার প্রতিষ্ঠান বাদ পড়লে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এমন আশঙ্কায় নির্বাচনের আগে সে ঝুঁকিতে যায়নি সরকার। তাই ঝুলে যায় এমপিওভুক্তির কাজ।

বর্তমানে ২৬ হাজার ১৮০টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত আছে। এর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১৯৭টি, কলেজ দুই হাজার ৩৬৫টি, মাদরাসা সাত হাজার ৬১৮টি। এ খাতে সরকারের ব্যয় বরাদ্দ আছে বছরে ১৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। এমপিও খাতের এ ব্যয় বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ৬৩ শতাংশের বেশি।

উল্লেখ্য, গত বছর জারি করা এমপিও নীতিমালা বা জনবল কাঠামোতে এমপিভুক্তির জন্য যে সব শর্তের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, শিক্ষকদের নিয়োগের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ১০০ নম্বরের গ্রেডিং করা হবে। তার মধ্যে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতিতে ২৫ নম্বর (প্রতি দুই বছরের জন্য পাঁচ নম্বর, ১০ বা তার চেয়ে বেশি বয়স এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৫ নম্বর), শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর ২৫ নম্বর (কাম্য সংখ্যার জন্য ১৫ নম্বর, এরপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে পাঁচ নম্বর), পরীক্ষার্থীর সংখ্যার জন্য ২৫ নম্বর (কাম্য সংখ্যার ক্ষেত্রে ১৫ ও পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য পাঁচ নম্বর), পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য ২৫ নম্বরের (কাম্য হার অর্জনে ১৫ নম্বর ও পরবর্তী প্রতি ১০ শতাংশ পাসে পাঁচ নম্বর) গ্রেডিং করা হবে। এ সবের ভিত্তিতেই নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওর আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *