ঈদের আগে গতকাল রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোয় যেন ঢল নেমেছে ক্রেতাদের। লকডাউনের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা সারতে ক্রেতারা ছুটছেন দোকানে দোকানে। শেষ দিকে বিক্রি বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে বিক্রেতাদের মাঝেও। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় কিছুটা অসন্তুষ্ট ক্রেতারা। আগামী সপ্তাহ না পেরুতেই ঈদ। বাকি মাত্র আর ক’টা দিন। তাই ঈদের আগে ছুটির দিন, শেষ গতকাল ক্রেতাদের পদচারণে সরগরম বিপণিবিতানগুলো। সব দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ভিড়ের এমন চাপে উধাও স্বাস্থ্যবিধি। নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব না থাকায় কভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা।

এক ক্রেতা বলেন, ‘মানুষের ভিড় বেশি। ঠিকমতো হাঁটা যায় না। বাচ্চাদের তো আর বোঝানো যায় না। ঈদ বলে কথা। বাচ্চাদের বায়না পূরণের জন্য আসতে হয়। ওরা তো আর বুঝে না এখন মহামারি চলতেছে।’ দাম নিয়ে অভিযোগ না থাকলেও পোশাকে বৈচিত্র্য না থাকায় আক্ষেপের সুর শোনা গেল কোনো কোনো ক্রেতার মুখে। যদিও নতুন কিছু ডিজাইন আসার দাবি বিক্রেতাদের। গহনা ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানেও ক্রেতাদের ভিড়। রোজার শেষ দিকে বিক্রি বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিক্রয়কর্মীরা। এক বিক্রেতা বলেন, ‘বিগত দিনগুলোর চেয়ে এই কয়েকদিন বেচাকেনা অনেকটা ভালো।’ রোজার শুরুর দিকে বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ২৫ এপ্রিল থেকে খুলে দেয়া হয় সব দোকান ও শপিংমল।

  ২৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার প্রস্তাব

গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষ ছিল উদাসীন। তারা শুধু বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে বিশেষ করে মাস্ক পরার প্রবণতা অনেকের মধ্যে থাকলেও কিছু-সংখ্যক মানুষের মধ্যে সে প্রবণতা দেখা যায়নি। অনেকে ঠিকঠাক মাস্ক পরা থাকলেও, অনেকের ছিল থুতনিতে ঝুলানো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক।

বড় শপিংমল ছাড়াও ফুটপাতের দোকানগুলোয়ও উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিক্রি নিয়ে কিছুটা সন্তুষ্ট তারা। সময় আরও আছে, বিক্রি আরও বাড়বে এমন আশায় উদ্বেলিত ক্রেতারা। মিরপুর-১০ নম্বরের মিরপুর শপিং সেন্টারে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে এসেছেন রাজিয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের কেনাকাটার জন্য এসেছি। যতটুক সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসেছি। আমরা মাস্ক পরে রয়েছি। কভিড সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে তারপরও ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন কাপড়চোপড় কেনাকাটার জন্য আসতে হয়েছে।’

মিুরপুর-১ নম্বরের বাগদাদ শপিং সেন্টারের লিলি কসমেটিকসের কর্ণধার সুমন বলেন, ‘শুক্রবার হওয়ায় আজ কাস্টমার একটু বেশি। বিক্রি কিছুটা ভালো। আজকে আরও বিক্রি হবে এমন আশা করছি।’ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। দেখে মনে হচ্ছে না দেশে কভিডের সংক্রমণ বাড়ার দিকে রয়েছে। এতে করে যে ভবিষ্যতে সংক্রমণ বাড়তে পারে এমন শঙ্কাও নেই কারও মধ্যে।