করোনা

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুর পর থেকেই এর প্রতিষেধক আবিষ্কারে দিনরাত গবেষণা করে যাচ্ছেন পুরো বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। লক্ষ্য একটাই- চাই করোনা থেকে মুক্তি। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে করোনা প্রতিরোধে কয়েকটা ওষুধের দেখা মিললেও করোনার ধরণ-গরণের জিনগত পরিবর্তনের কারণে সেখানেও হতাশার গুড়ে বালি। তবে চিকিৎসকরা গবেষণা করে দেখছেন ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করা যায় কিনা। এখন পর্যন্ত করোনা চিকিৎসায় কার্যকর দেখা গেছে প্লাজমা থেরাপি পদ্ধতি। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঢালাওভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছে।

  • পুরো বিশ্বে অর্ধেকের বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’। এরপরে ‘ও পজিটিভ’ ও ‘এ পজিটিভ’। প্লাজমা থেরাপি পদ্ধতি প্রয়োগ করতে গিয়ে রক্তের নমুনা অনুযায়ী চিকিৎসকরা দেখতে পেয়েছেন চীন-কানাডাসহ প্রাশ্চাত্যের অনেক দেশেই আক্রান্তদের বেশিরভাগ ‘এ পজিটিভ’ গ্রুপ রক্তের মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র। এক সমীক্ষায় দেখা বাংলাদেশে যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগের রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’।

এর মধ্যে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া মানুষের শরীরে কতটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা নিয়ে চলছে গবেষণা। কারণ রক্তে প্লাজমা থেকে শুরু করে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এ তথ্য জানা জরুরি। তেমনি এক গবেষণায় কানাডার ব্রিটিশ-কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে পজিটিভ-নেগেটিভ মিলিয়ে ‘এ’ গ্রুপ সবার ওপরে।

  • একই তথ্য মিলেছে চীনেও। এ বিষয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক ডা. মোহাম্মদ মোর্শেদ ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশি একটি টিভি চ্যানেলকে জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে করোনায় যারা মারা যাচ্ছেন, যাদেরকে আইসিও বা ভেন্টিলেটরের কাছে নিচ্ছে তাদের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের রোগীর সংখ্যা বেশি। এ থেকে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন ‘এ’ গ্রুপে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকিটা বেশি। আবার যারা ‘ও’ গ্রুপ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাটা বেশি।
  করোনা: আক্রান্তদের পাশে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বাংলাদেশে আক্রান্তদের রক্তের গ্রুপ নিয়ে আলাদা তথ্য-উপাত্ত নেই। তবে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট ও রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানা গেছে। গত এপ্রিল থেকে এ দুটি বিভাগে করোনা থেকে সুস্থ হওয়াদের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে করোনা আক্রান্তদের সুস্থতার জন্য দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে দুই জায়গা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২৭০ জনকে প্লাজমা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে যে ১২০ জনকে প্লাজমা দেওয়া হয় তাদের মধ্যে ‘বি পজিটিভ’ ৩৫, ‘ও পজিটিভ’ ২৫, ‘এ পজিটিভ’ ২৩ ও ‘এবি পজিটিভ’ ৩৭ জন। আর রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৫০ জনে ‘বি পজিটিভ’ ৯০, ‘ও পজিটিভ’ ৭৫, ‘এ পজিটিভ’ ৬২ ও ‘এবি পজিটিভ’ ২৮ জন।

  • শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, অন্যান্য দেশের চাইতে আমাদের দেশে ‘এ পজিটিভে’ করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাটা তুলনামূলক কম। সেই তুলনায় ‘ও পজিটিভ’ ও ‘এবি পজিটিভে’ আক্রান্তের হারটা একটু বেশি। আর ‘বি পজিটিভে’ আমাদের জনগোষ্ঠীও বেশি আর আক্রান্তের সংখ্যাটাও বেশি।

তবে করোনায় আক্রান্তদের নিয়ে রক্তের গ্রুপের যেই সমীক্ষা দেখা গেছে সেটাকে চূড়ান্ত গবেষণা বলছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। করোনায় যে কোনো রক্তের গ্রুপের যে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। করোনায় আক্রান্তদের রক্তের গ্রুপ নিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে তাতে সবার উচিত রক্তের গ্রুপ জানা ও সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা- তেমনটাই বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আমাদের বাণী ডট কম/২৪ জুন ২০২০/পিপিএম