শিক্ষা মন্ত্রণালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ সমূহের অর্নাস-মাষ্টার্স কোর্সে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বেতন বঞ্চনার শিকার হয়ে তাদের ঈদ আনন্দ কষ্টে পরিণত হতে চলেছে।

দীর্ঘ সাতাশ বৎসর হলো বেতন বঞ্চিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ সমূহের অর্নাস-মাষ্টার্স কোর্সের শিক্ষকেরা প্রতিবারের ন্যায় এবারও তাদের ঈদ আনন্দ কষ্টে পরিণত হতে চলেছে। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি হলেও উচ্চ শিক্ষাদানে নিয়োজিত এসকল শিক্ষকদের নেই কোন আনন্দ, খুশি। ১৯৯৩ সাল হতে চালু হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সমূহে বৈধভাবে নিয়োগকৃত এসকল শিক্ষকেরা শুরু থেকেই বেতন বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে পরিশ্রম করার পর তার ন্যায্য মজুরী দেওয়া হয় না, তাও আবার শিক্ষা শ্রম।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালার ভিত্তিতে ও সরকারি বিধি মোতাবেক এই সকল শিক্ষকেরা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। বিধি মোতাবেক একজন শিক্ষকের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং নিয়োগ ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও ডিজি মহাদয়ের প্রতিনিধির শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। নিয়োগ নীতিমালায় অধিভুক্ত কলেজকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সম পরিমাণ প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও সারাদেশে মোট বেসরকারি কলেজ সমূহের অর্নাস-মাষ্টার্স কোর্সেও পাঠদানকারী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা অধিকাংশই বঞ্চিত। কলেজ কর্তৃক নিয়োকৃত শিক্ষকদের বেতন ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে থাকে যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবিকা নির্বাহ করা কখনোই সম্ভব নয়। যেখানে একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার টাকা নির্ধারিত সেখানে একজন উচ্চশ্রেণির শিক্ষকের নামমাত্র বেতন ও মানবেতর জীবন-যাত্রা পরিহাস ছাড়া আর কি হতে পারে?

  বাইরে বের হওয়ার বিধি-নিষেধের সময়সীমা কমল

১৯৯৩ সাল থেকে আজ ২৭ বছর হলো শুধুমাত্র জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত না করার কারণে এসকল শিক্ষকেরা এমপিওভূক্তি হতে পারছে না। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। অথচ একই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেখানে ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রী (পাশ) শিক্ষকেরা এমপিওভূক্ত হতে পারেন অন্যদিকে মাদ্রাসা পর্যায়ে ফাজেল (স্নাতক) ও কামেল (স্নাতকোত্তর) শ্রেণির শিক্ষকেরা এমপিওভুক্ত হতে পারেন, তাহলে অর্নাস-মাষ্টার্স শ্রেণির শিক্ষকদের এমপিওভূক্তি না করার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারেনা। তাদের এই দুর্ভোগের কারণে শুধুমাত্র শিক্ষক বঞ্চিত হচ্ছে তা নয়, সুষ্ঠু পাঠদানের অভাবে শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছে এবং মান হারাচ্ছে উচ্চশিক্ষার। যার দায়ভার সরকার ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোন ভাবেই এড়াতে পারেনা।

এসকল শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে এমপিওভুক্তি প্রদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের সুপারিশ সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের দুইটি নিদের্শনা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি মন্ত্রণালয় ।

একটি দেশের জাতি গঠনের কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয় উচ্চশিক্ষাদানে নিয়োজিত এসকল শিক্ষকেরাই আজ চরম অবহেলার শিকার। এসকল শিক্ষকদের জীবনে আনন্দের ঈদ আজ কষ্টে পরিণত হতে চলেছে।

তাই উচ্চ শিক্ষাদানে নিয়োজিত এই সকল শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে ও শিক্ষকদের কষ্টের কথা উপলব্ধি করে তাদের কে দ্রুত জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে এমপিওভূক্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *