ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মাথায় হাত। কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ। ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া ও বাজার দর কম হওয়া নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা। তার ওপর ৪০ কেজিতে মণ ধরে ধান বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও বাজারে ব্যবসায়ীরা নিচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ কেজি বা তারও বেশি করে। তাদের কাছে ৪২ কেজিতে মণ। কৃষকরা এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি।

সরকার থেকে প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, কৃষকরা প্রতি মণ ধান বিক্রি করছে ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকায়। এতে করে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা জানান, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা বর্তমান বাজার দরের কাছাকাছি। তার ওপর মণপ্রতি অতিরিক্ত দুই-তিন কেজি বেশি করে ধান দিতে হয় আড়তদারকে। নয়তো তারা ধান কিনেন না, আমরা আছি মহাবিপদে। এ নিয়ে প্রশাসনের কাউকে অভিযান করতে দেখিনি আমরা।

বিষয়টির সুরাহা করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ধোবাউড়া বাজারের ধান ব্যবসায়ীদের নিয়ে তার অফিসে একটি সভায় ৪০ কেজিতে মণ ও ন্যায্য দামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার নির্দেশনা দেন। ওই সভার আগে ধোবাউড়া বাজারে প্রতি মণ (৪২ কেজি) মোটা ধান বিক্রি হচ্ছিল ৭৩০ টাকায়। কিন্তু সভা শেষ হওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে ধান ব্যবসায়ীরা ধানের দাম মণপ্রতি ৫০ টাকা কমিয়ে দেয় ও ৪২ কেজি মণ ধরেই ধান কিনছে।

  সীতাকুণ্ডে অভাবে রিক্সাচালকের আত্মহত্যা

স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা বলেন, যে মিলে আমরা ধান দেই সেখানে ৪২ কেজি করে দিতে হয়, কারণ কাঁচা ধান কিনে শুকালে দুই কেজি করে কমে যায়। তাই বাড়তি নিলে ক্ষতি হয় না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফ আলী ধান ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ৮৪ কেজিতে দুই মণ প্রায় ময়মনসিংহের সব উপজেলা নিচ্ছে, শুধু ধোবাউড়ায় নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম সরোয়ার তুষার বলেন, বাজারে ব্যবসায়ীরা সুকৌশলে তাদের সিন্ডিকেট করে

বাড়তি ধান কিনছে, যা আমরা জানি। নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। শিগগির সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যদি কেউ করে তবে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমাদের কৃষি অফিস নিয়মিত বাজার মনিটর করছে।