Shadow

ব্যাঙের ছাতার মতো বিস্তার লাভ করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমরা কিন্তু এদেশের স্বাধীনতা পেয়েছিলাম সঠিক নেতৃত্ব এবং একতাবদ্ধতার জন্য। নেতৃত্ব নিয়ে ছিল না কোন কোন্দল। দেশকে স্বাধীন করার জন্য সকলে নিজ নিজ দায়িত্বে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিল বলে। সকলের উদ্দেশ্য একই ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা। এই উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে সারা বাংলার জনগণ একজোট হয়ে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিল দেশকে স্বাধীন করার জন্য। আজ আমরা বাংলাদেশ নামক যে ভূ-খণ্ড পেয়েছি তা কারোর একার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব ছিল না। সকলের ত্যাগের কারণে আজ আমরা তা অর্জন করতে পেরেছি।

সকলে নিজের অধিকার আদায়ে তখন সোচ্চার হয়ে ছিল। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে পরাধীনতার গ্লানি থেকে দেশকে মুক্ত করে ছিল। আজ আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ও আমাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বছরের পর বছর আন্দোলন করে আসছি। সফলতার পূর্ণতা আজও পাইনি। রয়ে গেল সীমাহীন পার্থক্য। আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংগঠন গুলোর দূর্বলতার কারণে আজও আমরা তেমন ফলপ্রসূ সফলতা অর্জন করতে পারিনি। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংগঠন গুলোর মধ্যে নেই একতা। আমাদের শিক্ষক সংগঠন গুলো খন্ড খন্ড আন্দোলন করছে দাবি আদায়ের পক্ষে। কিন্তু এতে কোন ফলাফল অর্জন হবে না জেনে ও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে না শিক্ষক সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দ।

এটা সাধারণ শিক্ষকদের নিয়ে প্রহসনে মেতেছেন সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দ। যেখানে সফলতার পূর্ব শর্ত হলো বৃহত্তর ঐক্য। খন্ড খন্ড আন্দোলন আমাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে নিচ্ছে মনে হয়। আমরা সবাই নিজেকে যদি বড় নেতা এবং বড় সংগঠনের একজন মনে করি তাহলে ঐক্য গঠন হবে কীভাবে? আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক এই পরিচয় থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্য গড়ে তুলার জন্য চাই উদার মন মানসিকতা। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এগিয়ে আসতে হবে সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দের। কিছু দুঃখের বিষয় একে অপরকে দোষারুপ করা ছাড়া ঐক্য বলতে কিছুই হচ্ছে না। যা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সত্যিই হতাশাজনক।

আজ বাংলাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন ব্যাঙের ছাতার মতো বিস্তার লাভ করেছে।
যে যার মত করে চলছে। কারোর সাথে কারোর নেই সম্পর্ক। নেই কোন পরিকল্পনা। নেই কোন আলোচনা । যে যার মত করে কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং পালন করে। বর্তমান সময়ে যা বুঝা যাচ্ছে তা হলো নিজেকে নেতা হিসেবে প্রকাশ করাই মূল লক্ষ্য দাবি আদায় নয়। দাবি আদায় নিয়ে নেই কোন মাথা ব্যাথা। সাধারণ শিক্ষকদের নিয়ে চলছে ম্যাজিক ম্যাজিক খেলা। প্রতিটি সফলতার পিছনে রয়েছে যেখানে বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্য ছাড়া কোন কাজে সফলতা আসবে না এটাই স্বাভাবিক। পরিকল্পনা বিহীন আন্দোলন কখনো ফলপ্রসূ হবে না। দাবি আদায় করতে হলে চাই সুদৃঢ় পরিকল্পনা। আমাদের মূল দাবি যদি জাতীয়করণ হয় তাহলে এত বিভাজন কেন সংগঠন গুলোর মধ্যে ?

  নন-এমপিও শিক্ষকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানবিক আবেদন

কোন দাবি আদায়ের প্রধান হাতিয়ার যেখানে সকলের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গঠন। কথায় আছে দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। আজ আমাদের মধ্যে বিভাজন থাকার কারণে দাবি আদায়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দাবি নিয়ে সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে। দাবি আদায় হউক আর না হউক এটা নিয়ে নেতৃবৃন্দ কোন গুরুত্বই দিচ্ছে না। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাস্তব জীবন তাই দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এখন বাস্তবতা উপলব্ধি করে সংগঠন গুলোর উচিত এক প্লাটফর্মে এসে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। বৃহত্তর আন্দোলন ছাড়া আমাদের দাবি দাওয়া কখনো আদায় হবে না। আসুন আমরা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে দাবি গুলো আদায় করি।
ধন্যবাদান্তে

কুকুটিয়া কে, কে, ইনস্টিটিউশন
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *