ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকাঃ রাজধানীর মিরপুর থেকে সাজাপ্রাপ্ত ৩৮ মামলার আসামি শামসুদ্দোহা চৌধুরী বিপ্লব ওরফে দোহাকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গতকাল মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর-১ নম্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪।

দোহার বিরুদ্ধে প্রতারণা, নারী কেলেঙ্কারি, সরকারি দপ্তরে তদবির, চাকরির প্রলোভন ও বিদেশি প্রজেক্ট দেখিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল জানান, পাবনায় জম্মগ্রহণ করা এস এম শামসুদ্দোহা চৌধুরী বিপ্লব বিভিন্ন সময় নেহাল চৌধুরী, আদিল, অনিক, কায়সারসহ বহু নাম ব্যবহার করেছেন। মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে কোনো এক সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দেয়। যদিও তিনি কোরিয়া থেকে বিবিএ পাশ বলে প্রচার করেন ও কিছু ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে ঘোরেন। সেখানেই তিনি ইংরেজি ও কোরিয়ান ভাষা বেশ ভালোভাবে রপ্ত করে নিজের নাম রেখে দেন লি সান হো। কোরিয়ানদের সঙ্গে প্রতারণা করে কোরিয়া থেকে চলে আসেন বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন কোরিয়ানদের ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করার সুবাদে আবারও কোরিয়ানদের জন্য ফাঁদ পেতে বিভিন্ন জনের সর্বনাশ করেন। এরপর তিনি নাম সর্বস্ব ওয়াও গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক হিসেবে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় অফিস নেন। সেখান থেকেই তিনি সমান তালে তার অনৈতিক কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, বারিধারায় গত দুই বছরে দোহা সাত-আটবার তার অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন করেছে। প্রত্যেকটি বাসায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

  '৯০ শতাংশ স্কুলের পাশে সিগারেট বিক্রি'

তিনি জানান, দোহা গুলশান, বনানী, উত্তরা কেন্দ্রিক এঞ্জেল সার্ভিসের নাটের গুরু। এই দোহা বিভিন্ন নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সেগুলোর গোপন ভিভিও ধারণ করে তাদেরকে ফাঁদে ফেলত। সেই ভিডিও কাজে লাগিয়ে দোহা এঞ্জেল সার্ভিসে নারীদেরকে কাজ করতে বাধ্য করত। তার তিনটি স্ত্রীর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে জানা যায়।

তিনি জানান, ভুক্তভোগী মানুষেরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা করে যার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ বিভিন্ন মামলার ৩৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণা সংক্রান্ত অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, অন্যের জমি ভুয়া দলিলপত্র নিজের নামে দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল খানের কাছ থেকে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন দোহা। ধানমন্ডিতে বসবাসরত হারুনের কাছ থেকে ৯৬ লাখ ও সুইজারল্যান্ড প্রবাসী তানভীরের কাছ থেকে ৩০ লাখ, ঢাকার জুরাইন এলাকার আলমগীরের নিকট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন দোহা।

এমনকি কোরিয়ান নাগরিক জং এর কাছ থেকে ব্যবসায়িক পার্টনার সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও, বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন দোহা।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। প্রতারিত অসংখ্য ভুক্তভোগী র‍্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তাদের মধ্যে ১০-১২ জন প্রতারক দোহার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্ততি গ্রহণ করছেন।