মতলব উত্তরে মৎস্য আড়তদারের রহস্যজনক মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর গ্রামের মৃত. এমদাদুল হক বেপারীর ছেলে রহমান বেপারীর (৫৫) সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে।

আমিরাবাদ বাজারের মৎস্য আড়তদার রহমান বেপারীর লাশ পাশর্^বর্তী চাঁদপুর সদর উপজেলার মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামের দেলু মালের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিহতের স্বজনরা। তড়িগড়ি করে লাশ দাফন করায় এলাকায় এ মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বানছে। এলাকাবাসী রহমান বেপারীর স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর গ্রামের মৃত. এমদাদুল হক বেপারীর ছেলে রহমান বেপারী (৫৫) আমিরাবাদ বাজারের মৎস্য আড়তের একজন আড়তদার। তিনি জেলেদের মাছ শিকার করার জন্য দাদন দিয়ে থাকতেন। মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম থাকায় কয়েকজন জেলে রাতের আঁধারে মাছ শিকার করতে চাঁদপুর সদর উপজেলা সীমানার নদীতে গেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামের তানজিল হোসেন, (পুলিশ কনস্টেবল ছুটিতে থাকা) তুহিন, আশিক, বিল্লাল হোসেন’সহ কয়েকজন যুবক ৩ জেলেকে নৌকা, জালসহ আটক করে রাখে।
এ খবর পেয়ে আড়তদার রহমান বেপারী আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনার জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলার মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামে সোমবার রাত ১১ টার দিকে যান।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামের মৃত. আহমেদ মাল এর ছেলে মৎস্য ব্যবসায়ী দেলু মাল সাংবাদিকদের জানান, রাত দেড়টায় রহমান বেপারী আমার বাড়িতে এসে দরজায় স্বজোরে ধাক্কা দিয়ে ‘ আমাকে বাঁচাও বাঁচাও’ বলে ডাক চিৎকার দেয়। ডাক শোনে দরজা খোলে দেখি রহমান বেপারী। সে প্রায় মৃত্যু শয্যায়। ঘরে নিয়ে তাৎক্ষণিক বাতাস করি ও হাত-পায়ে তেল ম্যাসেজ করি। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  জগন্নাথপুরে নতুন দুই জনসহ মোট ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত

দেলু মাল আরো জানান, পূর্বেও সবজি কান্দির কয়েকজন যুবক আড়তদার রহমান বেপারী’সহ আমিরাবাদ মাছের আড়তের ব্যবসায়ী ও জেলেদের নৌকা জাল আটকিয়ে রেখেছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মারামারি হয় এবং বিরোধ চলছিল। ৩ জেলেকে পেয়ে ঐ যুবকরা পেয়ে অর্থ সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। জাটকা জেলে বলে চাঁদপুর সদর পুলিশের হাতে মতলব উত্তরের নম সাংকিভাঙ্গা গ্রামের খোরশেদ মিজির ছেলে মুনসুর (৩৫) ও আরশাদ মিজির ছেলে নাসির (২৫)কে সোপর্দ করে। আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে ১ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। মুকবুল হোসেন প্রধানের ছেলে জুয়েল শিশু হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে বিষ্ণুপুর ইউপির মহিলা সদস্য নাহিদ সুলতানা ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন, টাকা না দেওয়ায় তাদেরকে চাঁদপুর মডেল থানায় সপোর্দ করে।

আড়তদার রহমান বেপারীকে ঘটনার দিন রাত ১১ টায় শহিদ উল্লার ছেলে সুমন (৩৫), খোরশেদ মিজির ছেলে মুনসুর (৩৫) ফোন করে সবজি কান্দি যাওয়ার জন্য বললে রহমান বেপারী তাদেরকে বলেন আমি আসতেছি। রহমান বেপারী ঘটনাস্থল পৌছার পূর্বেই মহিলা মেম্বার নাহিদ সুলতানা আটককৃত জেলেদেরকে লালপুর নামক স্থানে নিয়ে কিছুক্ষন আটকে রেখে পরে চাঁদপুর মডেল থানায় সোপর্দ করে বলে ছাড়া পাওয়া শিশু জেলে জুয়েল (১৪) জানান।

এ ব্যাপারে নিহত রহমান বেপারীর মৃত্যু সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই আড়তদার দেলোয়ার বেপারী কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং মৃত্যু নিয়ে তিনি কিছু বলতে অসম্মতি জানান।

আমাদের বাণী-আ.আ.হ/মৃধা

[wpdevart_like_box profile_id=”https://www.facebook.com/amaderbanicom-284130558933259/” connections=”show” width=”300″ height=”550″ header=”small” cover_photo=”show” locale=”en_US”]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *