Shadow

মাগুরায় স্বাস্থ্যসেবায় নজর দিন

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো সোহেল মুন্সী; বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য খাতে এতদিন কতটা কম মনোযোগ দেয়া হয়েছে এবং কত বড় ধরনের সংস্কার এক্ষেত্রে দরকার।এই করোনা সব সেক্টরকে নগ্ন ভাবে দেশবাসীর সামনে নিয়ে এসেছে।

এই অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭.২ শতাংশ অর্থাৎ ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ স্বাস্থ্য খাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এটাই যথেষ্ট? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম এটাই যথেষ্ট। কিন্তু এর সুফল দেশবাসি কবে পাবে??

“জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছেন,দেশে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই যে ভেঙে পড়েছে, এছাড়া অন্যান্য যে স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো যাতে না হয় তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যে নেয়া হয় না, সেসব ব্যাপারে তেমন কোন পরিকল্পনা সেভাবে নেই।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলছেন, “ধরুন নিরাপদ খাবার পানি যদি নিশ্চিত করা হয়, তাহলে ডাইরিয়া কম হবে। বায়ুদূষণ রোধ করলে এর প্রভাবে যে স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয়, সেটা মোকাবেলা করা যাবে। অসুখ না হওয়া মানে হাসপাতালে যেতে হবে না। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে দেখা হয় না।”সূত্র : বিবিসি, ১৫-০৭-২০

এদিকে আমার জেলা শহর মাগুরাতে করোণা রোগী হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। গত বুধবার মাগুরাতে সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত ২৩ জন এবং আজ ২২ জন রোগী শনাক্ত হয়। এপর্যন্ত মোট ২৮৮ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার মধ্যে পৌরসভা -১৭৬জন, সদর–৪২জন, শ্রীপুর–৩০, মোহাম্মদপুর -২৩ জন এবং শালিখা–১৭।

অথচ মাগুরা সরকারি ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সহ কোথাও সুপরিকল্পিত করোনা রোগীর চিকিৎসার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ আছে যে, রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে কর্তব্যরত নার্সদের (সবাই না) ব্যবহার খুবই অসৌজন্যমূলক। এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশির ভাগ রোগী কে ঢাকা অথবা ফরিদপুরে রেফার করেই দায় সারছেন।

আপনি হাসপাতালের বারান্দায় কয়েক মূহুর্ত দাঁড়িয়ে থাকেন, দেখবেন মানুষের চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার বোবা কান্না শুনতে পাবেন। অথচ আমাদের জেলার কর্তা ব্যাক্তিদের গাল ভরা উন্নয়নের বুলি শুনি।

মাগুরাতে করোনা মোকাবিলায় গণকমিটি গঠন হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দাবি নিয়ে করোনা রোগীর সংকটময় পরিস্থিতিতে আইসিইউ, সেন্টাল অক্সিজেনে স্থাপন সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাস্তায় থেকেছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কথাই কানে নেন নি।

  রূপপুরের বালিশ কাণ্ড থেকে ফরিদপুরের পর্দা কাণ্ড, এক সেট পর্দা ৩৮ লাখ টাকা

অনলাইন নিউজের মাধ্যমে জানতে পেলাম , “মাগুরা সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিকাশ শিকদার জানান- মাগুরা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল প্রশাসনেক অনুমোদন থাকলেও জনবল কিংবা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় এটি এখনও ১শ শয্যারই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। হাসপাতালের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলাকে কোভিড রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে নার্সিং ইন্সটিটিউটের একটি বিল্ডিংয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাগুরা সদর হাসপাতালে কোন সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সরবরাহ নেই। হাসপাতালে কোন আইসিইউ নেই।

কি সাংঘাতিক একই বিল্ডিং এ সাধারণ রোগী এবং করোনা পজিটিভ রোগীও থাকবে আবার সুচিকিৎসার অভাবে যে ৭ জন করোণা রোগী মারা গেছে, তার ৪ জনই মারা যাবার পরে করোণা রিপোর্ট পেয়েছেন।মারা যাওয়া ব্যাক্তিরা আইসিইউ সাপোর্ট এবং করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আগে পেলে তারা হয়তো আরো কিছু দিন বাঁচতে পারতো।
কিন্তু এ মৃত্যুর দায় কে নেবে?

এটা কোনো সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা হতে পারে না। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতের দূর্বলতা গুলো চিহ্নিত দ্রুত সমাধান করবে বলে বিশ্বাস করি।

এবং মাগুরাসরকারি ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা সেবা, জনবল বাড়ানো, করোনা আক্রান্ত নয় এমন রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এই সকল দিক নিয়ে টেকসই সময়োপযোগী পথ-নির্দেশনা চাই এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

লেখক;  শিক্ষার্থী,  ড. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, যশোর
[email protected]

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •