নিজস্ব সংবাদদাতা, মুন্সীগঞ্জঃ করোনার থাবায় মুখ থুবড়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর মনিপাড়ার ঋষিপল্লির বাঁশ ও বেতের কুটির শিল্প। গত বছরের মতো এ বছরও বৈশাখী মেলা বন্ধ ও করোনার কারণে রাজধানীতে দোকান পাট বন্ধ থাকায় উপজেলার বাঁশ ও বেতের সামগ্রী অবিক্রিত থেকে গেছে। ভরা মৌসুমেও মালামাল বিক্রি করতে না পারায় স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। মৌসুমের এ সময়টায় সারা বছর চেয়ে থাকে মধুপুর মনিপাড়ার বাঁশ-বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো। মালামাল অবিকৃত থাকায় লাখ লাখ টাকার লোকসানের কবলে পড়ছে পরিবারগুলো। আবার কেউ করোনায় নিঃস্ব হয়ে উদ্যোক্তা থেকে শ্রমিক হয়ে কাজ করছেন।

মনিপাড়ার পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঋষি সম্প্রদায়ের ৮০টি পরিবার শত বছর ধরে এ বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি করে আসছেন। এখানে বেতের ঝুড়ি, বাস্কেট, পেপার বাস্কেট, ফলের ঝুড়ি, আয়নার গ্লাস ফ্রেম, বেতের লেমজার বাতি, বেতের মোড়া, ফুলের টপসহ বাঁশ ও বেতের প্রভৃতি সামগ্রী তৈরি করে থাকেন তারা। এসব সামগ্রী রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড ও ইস্কাটনের বাঁশ-বেতের দোকানগুলোতে বিক্রি হয়ে থাকে। রাজধানী থেকে পণ্যগুলি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। কিন্তু করোনায় সব থমকে আছে। এ অবস্থায় পরিবারগুলো সব মিলিয়ে অর্ধকোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছে।

  চামড়ায় লাভ শুধু ট্যানারি মালিকদের

অগ্রহায়ণ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত বেত সংগ্রহ করে থাকেন তারা। বরিশাল ও ফরিদপুরের হাট থেকে তিন থেকে ১০ ফুট লম্বা বেত এক পুন (৮০পিস) হিসেবে কিনে থাকেন। এ কাঁচামালগুলো বর্ষার মৌসুমে পাওয়া যায় না। তাই এখন কিনে রাখতে হয়। একদিকে যেমন অর্থ সমস্যা অন্যদিকে মাল এখন না কিনলে আর কাঁচামাল পাবে না। আর এ কারণে এ এলাকার কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য কম মুনাফায় ব্যাংক ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানান পরিবারগুলো।

মধুপুরের কুটির শিল্পের উদ্যোক্তা ধীরেন দাস বলেন, “আমার অধীনে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করে। লকডাউনের কারণে কোনো মাল বিক্রি করতে পারছি না। আর একারণে শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি কোনো অনুদান এখনো পাইনি।

উদ্যোক্তা থেকে কারিগর কবিতা রানী বলেন, “আমি নিজে একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। করোনার কারণে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। তাই ব্যবসা না চালাতে পেরে কাকার এখানে মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেছি।”

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে এবং ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে আমরা সরকারিভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করছি।”

আমাদেরবাণী/মৃধা