রাহুর করালে সুখের একাদশী
আইনুল হোসেন সানু

অনেক কাল আগে
এক নিশিথে,
একা দূরে
রেল গাড়ি’ যাত্রা পথে
দেখা এক জ্যোতিষী’ র সাথে,
অধিকাংশ যাত্রী’ ই ছিলো
বিভোর ঘুমে,
জাগ্রত পেয়ে দু’ জন আলাপনে
কথা’ য় কথা’ য় সময় কক্ষেপনে
কথার এক ফাঁকে হঠাৎ কোনো এক ক্ষণে,
দেখি দেখি …..
বলে ঝটকা টানে
নিয়ে হাত’ টি আমার মেলে
দু’ চোখ’ ভরে গভীর মনোযোগে
পর্যবেক্ষণ শেষে জ্যোতিষী
অতি উৎসাহে বলে
স্মিথ হেসে —-

জীবন চক্র তোমা’ র
ভীষণ মজার,
ধরো যেমন….দীর্ঘ
যাত্রা শেষে যদি পৌঁছে
গোন্তব্যে নির্ঝঞ্ঝাট কাটে উদ্বেগ —
ঠিক তেমনি
অনন্ত….
উপবাসের পর
যদি হয় খুদা নিবারণ,
তবে’ যথার্থ ই মূল্যায়ন
খাদ্যের —-,

কথায় কথায়
বলেছিলো আরও সে’
দেখো ……
সুখ সরোবরে পূর্ণ তিথী
রবে খুশালী’ তে ঘিরে, আর পূর্ণিমা’ য় ভরা
তোমার জীবন —-

স্বপ্নের ভেলায় ভেসে
আসবে সুখ সে’ দুঃখ চন্দ্রভূকি, ভেবে না’ দীর্ঘস্থায়ী’, রবে সে’ বারোমাসি …
টিকবে না’ দেখো
জানি’ সে’ অতি’ ক্ষণস্থায়ী
তবে,
ঘটবে আগমন নিত্য সত্যি’
একের পর এক
আগুনতক মধুকরী, আর
তাতেই বাদশাহী’ —

কিন্তু,….
ঐ’ যে’ রাহুর দশা
সে’ অতি স্পষ্ট’ত নয় অহেতুক …..
চায়’ বে করতে অতি’ ই বাড়াবাড়ি’,
কাটাতে…..
লাগবে পাথর ভারী,
চলতি মৌসুম শেষে হবে
খড়া ভারী’, শেষ হতেই তুফান বারি
সেও’ ভীষণ রকম
কিছু’ অতি —

করলে গড়িমসি
ধরলে একবার ভীমরতি’ তে……
জানি’ নিশ্চিত
ধরাসায়ী —
চলবে দফায় দফায়
চাইবে নিতে সে’
নজর কাড়ি….. ,
শুনে
হ্যাঁচকা টানে
চাই’ হাত’টা ছাড়ি, হই
ব্যার্থ অতি ভাবি ভীষণ বুঝি
পড়েছি যাতাকলে –;
খাবে জানি খুবলে খানিক
কষ্টের তোরে….
কেঁদেছিলাম মনে-মনে
ডুবি ভাবনা’ য় রই
বেশ’ খানিক —-

রইলো সে’
থমকে খানিক, বিস্ময়ে
হাসে’ কিঞ্চিত মৃদুস্বরে, তাতে’ ই
ঝরে যেন’ চোখে’ তার’ দূর্লভ মানিক,
খুললো মুখ একটু পরেই
ছেড়ে কয় দীর্ঘস্বাসে ……
নেই সন্দেহাতীত
দেখো আসবো ফিরে অতি শিগ্রহ নিশ্চিত
ভেবো না’,….
আনবো ঠিক খুঁজে…..
দেখো, মোক্ষম পরিসরে
সুদূর সে’
হোক’ না’ যতই দূরে,
চাইলেই পারি আনতে যখনতখন
চিরে বুক ঐ’ কঠিন হিমালয়ের, অপেক্ষা’
পেরুলেই অষ্টাশী —-

ভাবে মন’
আনমনে’ তে
বসি ঘুরে সে’ উল্টো মুখী —
হঠাৎ ফিরে সে’
বলেই বসে…..ভাবছো,
বুঝি মিথ্যে সবই মন গড়ানো, …..আর
বানিয়ে বলছি বাড়িয়ে আমি ?

যদি ভাবো তাই …..
তবে, নেই কাজ সে’ সবে তে,
না’ পড়ি অহেতুক ঝঞ্ঝাটে তে
চলি তবে….
হোক’ অজানা’ তবু নিজের পথে
শুধু, থেকো সামলে
যাই সে’ তবে …..
বলেই ঝটপট পড়লো নেমে
ঠিকই সে’ পরের ঐ’ ষ্টেশনে থামলে যখন,
হবে রাত নিঝুম তখন,
চাইলো ফিরে একটু খানি, হাস্যমুখে
দেখি একঝলক আবছা তারে
তারপর গেলো মিশে এক নিমেষেই
ঘুটঘুটে অন্ধকারে মূহুর্তে সে’
চোখে’ র পলে —-

কাটে ……
বাকী’ রাত আমার নির্ঘুমেতে
একলা বসে,
একে একে চলছে বয়ে
সময় টা’ সেও ঢিমে তালে, সাথে তার
দিন ক্ষণ জুড়ে প্রকৃতি সেও
নিজ নিয়মেই —-
রই আনমনে স্বপ্নে ঘিরে
যেন’ সব গেছি ভুলে ইচ্ছে করেই
সেই সে’ তো কবেই…..
কি’ জানি’ কেমনে করে —-
পেরিয়ে দিন ফের
সপ্তাহ মাসের শেষে দেখা হঠাৎ
সেই রাহুর সাথে, হবে
সেও বছর পরে —

একে একে হুমড়ি খেয়ে
পড়ি পথ চলতে পথে, প্রতি’ মুহূর্ত
জড়ায় ঝঞ্ঝাটে তে,
কার্যত কর্মে খুঁজি কারণ
দিনে ও রাতে , অহেতুক জঞ্জালে’ তে
ওঠে যেন’ নাভিশ্বাসে
সকাল সাঁঝে প্রাণ আমার
ওষ্ঠাগত —

বসলো জেঁকে
বুকে চেপে ভীষণ ভারী’
মুশকিলিতে ভয়াল শীতে’র প্রকোপ
করলো কাবু,
এলে ঐ বসন্তে’ ফের
ফুটলে যখন শাখে শাখে ফুলের সারি
শুনি রোজ
ডাকে সেথা কোকিল একা ঐ’
কুহু সে’ মধুর স্বরে,
তবু মন’
দোল খেলে না’,….
কে’ জানে’ সে’ কিসের ভয়ে’
একটু খানি —?

হঠাৎ
যেন’ পড়লো মনে… বলেছিলো
সে’ আসবে ফিরে
সমস্বরে ….. ….
সেই জ্যোতিষী’
সেই সে’ সে’দিন যাবার কালে
নিয়ে সাথে পাথর ভারী’ —-

ফুরালে
কাশ ফুলের দিন
শরৎ …. গেলো চলে,
আকাশ জুড়ে
রঙের ভেলা সেও তো
গেলো মিলিয়ে —
পরে তার….
ভীষণ খড়া সেও তো’ ঠিকই হলো,
বর্ষা বাদল সব ফুরালো
একেক করে চন্দ্রভূকি অমাশসী…..
অবশেষে অষ্টাদশী’ ও
পেরুলো —-

অথচ …..
এলো না’ সে’ ফিরে আর
কোনো দিন ই ….
ভাবি আজও তারে
কে’ জানে’ কিসের মোহে
দিয়ে কথা
সেই যে’ গেলো,
বলেছিলো যে’ কথাচ্ছলে
এক নিশিথ ঐ’ সে’ রাতে’ সেই জ্যোতিষী’,
হবে, বুঝতে পেরে সুযোগ বুঝে
মন ভুলানোর ছলে
সেই সে’ ক্ষণে, বলো তবে…. কোথা’ আজ
সে’ বাদশাহী’……?

ভাবে
আজও বসে একা
বিসন্ন মন প্রতি’ ক্ষণেক্ষণে
জানি’, হচ্ছে রক্ত ক্ষরণ
সারা’ টি ক্ষণ জুড়ে হৃদ মাঝারে, গভীর
ক্ষত হতে দিবানিশি ভরে —–

ভালো বাসায়
যদি না’
থাকে কিছু’ ব্যাপ্তি….
না’ প্রাপ্তি সে’ কোনো কালেই, তবে
বলো সে’ কি’সের জীবন ?
দৈন্য’ তায়
ভরা যার পূর্ণ জীবন —-
সমন্বয় না’ আছে একটু তরো
সাধ সাধ্যের কাছে ?
না’ আছে মোটেও খানিক, ফারাক
বিস্তর প্রতি’ পলে তাতে
আসমান জমিন,
পলে পলে যাই তলিয়ে ফের
উঠি ভেসে, ডুব সাঁতারে যেন’ অহেতুক
যাচ্চি ফেসে
হঠাৎ আসে ছোবল মারে
মরণ জলোচ্ছাসে —

বসে রই
পথচেয়ে, বলে মন
আসবে ফিরে
পলকে সেই আঁধার ডিঙে
হলে ক্ষণেক তরে, সেই’ যে’ পথের পরে পথ
যেথা অচিন পথে হরহামেশা
গেছে মিশে —

আসে’ নি’
সে’ ফিরে আর আজ অবধি
কে’ জানে’ হবে
কোথা’ ও বেশী’ পেয়ে
হারালো’ সে’ কোন অজানা
কোণ সে’ লোকান্তরে, নিষ্ঠুর
সেই জ্যোতিষী’ —
বাস্তবতা’ র পরিহাসে একলা
তবু চলি হেসে
আজও নিত্য খুঁজে ফেরা পথ
সে’ বারোমাসই —
চৈত্রে দারুন খড়া, ওঠে কাঁপন শীতে
দারুন বস্ত্র বীনে প্রতি’ রাতে প্রাতে
যথেচ্ছা থরথরো —-

বৈশাখে তে
উঠে যখন প্রবল ঝোড়ো হাওয়া,
এক পলকে হয় যে’ মনে
জীবন যেন’ উড্ডীয়মান এক
ছেড়া পলিথিন
অনিচ্ছা তে চলছি উড়ে
হেথা হতে সেথা আজব পরিবেশে
ঠিকানা বিহীন।

আমাদের বাণী-আ.আ.হ/মৃধা

[wpdevart_like_box profile_id=”https://www.facebook.com/amaderbanicom-284130558933259/” connections=”show” width=”300″ height=”550″ header=”small” cover_photo=”show” locale=”en_US”]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।