বান্দরবানের লামা উপজেলায় একদল বন্যহাতি তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় ৫টি বসতঘর তছনছ হয়ে গেছে, হাতির আক্রমণে নিহত হয়েছে রহিমা বেগম (২০) নামের এক বাক প্রতিবন্ধী।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পুইট্টারঝিরি ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী আমতলী পাড়ায় এ তাণ্ডব চালায়। দলে ১৪ থেকে ১৫টি হাতি ছিলো বলে জানায় স্থানীয়রা। বর্তমানেও হাতিগুলো ওই গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ে অবস্থান করায় আতঙ্কে আছেন তারা।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গহীন পাহাড় থেকে একদল বন্যহাতি মঙ্গলবার দিনগত রাতে সরই ইউনিয়নের পুইট্টারঝিরি গ্রামে নেমে পড়ে। হাতিগুলো প্রথমে পাড়ার বাসিন্দা আবুল মিয়ার বসতঘর ভাঙচুর শুরু করে। পরে একে একে মো. জাহাঙ্গীর, নুরুল কবির ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী আমতলী পাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান ও মফিজুর রহমানের বসতঘর ভাঙচুর করে। এ সময় হাতি আক্রমণ টের পেয়ে বাক প্রতিবন্ধী রহিমা বেগম আত্মরক্ষার জন্য ঘর থেকে বের হলে হাতির সামনে পড়েন। হাতির আক্রমণে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

একই সময় হাতিগুলো স্থানীয়দের ঘরে থাকা ধান, চাউল, বাগানের কলা গাছ খেয়ে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। এরপর আরব আলী ও মুসলিম উদ্দিনের কলা বাগান ও ধান ক্ষেত পদপিষ্ট করে বিনষ্ট করে দেয় হাতির দলটি।

হাতির আক্রমণের শিকার নুরুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম ও সোলায়মান বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৪-১৫টি বন্যহাতি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এ কথা জানাজানি হলে লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। রাতে গ্রামের মানুষ একঘণ্টার জন্যও ঘুমাতে পারেনি। হাতি কখন কার বাড়িতে ঢুকে পড়ে- এই ভয়ে মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

  ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

তারা আরও বলেন, হাতিগুলো প্রথমে বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে ফেলে। বিশেষ করে ঘরের দরজা জানালার পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আর ঘর ভাঙ্গা শুরু করে। পরে ঘরে থাকা ধান চাল খেয়ে ফেলে। রাতজেগে আগুনের কুণ্ডুলি জ্বালিয়ে বাড়ি ঘর পাহারা দিয়ে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হারিছ মিয়া ও নাছির উদ্দিন জানান, অনেকক্ষেত্রে রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে, ঢোল পিটিয়ে ও চিৎকার করেও বন্যহাতির দলকে সরানো যায় না। বেশি ভয় দেখালে গায়ের দিকে তেড়ে আসে হাতিগুলো। এ কারণে চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের পক্ষে কিছুই করার থাকে না।

এদিকে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আলমগীর জানায়, হাতির আক্রমণে নিহত প্রতিবন্ধী যুবতীর লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যহাতির তাণ্ডবে এক প্রতিবন্ধী যুবতী নিহত ও বসতঘর ভাঙচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উল্ আলম ও আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এখনো হাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। আবারও যে কোন মুহূর্তে তাণ্ডব চালিয়ে জান ও মালের ক্ষতি করতে পারে।

এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার জানান, উপজেলার সরই ও আজিজনগর ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ায় বন্যহাতির দল তাণ্ডব চালিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। হাতি দ্বারা নিহত প্রতিবন্ধী যুবতী ও ক্ষতিগ্রস্তদেরকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিধি মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।