বরিশাল জেলা সংবাদদাতা; জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর খবর শুনে অসুস্থ বাবা আব্দুর রশিদের (৭৮) মৃত্যু হয়েছে হলে জানা গেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের কোচনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

গত ৪ নভেম্বর শহিদুল ‍ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসর্মপণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ খবর শুনেই তার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয় মেম্বর আব্দুল মজিদ খান অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে জানান, ধর্ষণ মামলায় কারাগারে যাওয়ার খবর শুনে বয়স্ক বাবা রশিদ মাতুব্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই থেকে তাকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। শনিবার সকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মাতুব্বর বাড়ি সংলগ্ন মাদ্রাসার সামনে তার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তবে কলসকাঠির ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়সাল অহিদ মুন্না তালুকদার ও বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম কারাগারে যাওয়ার খবরে তার বাবা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন কিনা এ বিষয়টি তারা নিশ্চিত নন।

  নতুন রূপে দেশের ৩০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রসঙ্গত, বাকেরগঞ্জ ৭ নং কবাই ইউপির সোনাকান্দা গ্রামের এক যুবতীর সাথে অটোতে যাতায়াত করার সময় অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি ওই যুবতীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। ধীরে ধীরে যুবতী ও অধ্যক্ষের মধ্যে ভালোবাসার সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় যুবতীর সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।

যুবতী বিয়ে করার কথা বললে অধ্যক্ষ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ ঘটনার দিন ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে যুবতীর বাড়িতে কেউ না থাকায় অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম পুনরায় কলেজে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে বলে মামলায় অভিযোগ ‍আনা হয়।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ২২ জুন বাকেরগঞ্জ থানায় অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ শহিদুল উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জানিন নেন। গত বুধবার উচ্চ আদালতের আগাম জামিন শেষে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। পরে বিচারক তা নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।