Shadow

সততার মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাক আমাদের আইনজীবীরা:এড.যূথী

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এডভোকেট নাহিদ সুলতানা যূথী: করোনার সাথে প্রায় ৫ মাস , আমার ভাবনায় আইনজীবীরা কেমন আছে , কিভাবে চলছে আইনজীবীরা, কেউ কি ভেবেছেন ? ভেবে থাকেলে ধন্যবাদ।  আমরা সাধারণ আইনজীবীরা বেশি ,বিশেষ বিশেষ জনেরা কম , কয়জনের অনেক টাকা আছে ,কয়জনের জমান টাকা আছে , কয়জনের দুর্নীতির টাকা আছে , কয়জনের অগাধ টাকা আছে ,কয়জন বাড়িভাড়া দিতে পারছে ,কয়জন গাড়ি হাঁকিয়ে আসে ,কয়জন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এ চলাচল করে ,কয়জনের prado চালায়?

সরকারি আইনজীবীরা তো নিরাপদে আছে কারণ তারা একটা ফিক্সড আমাউন্ত পাচ্ছে বাড়িতে বসে ই কিন্তু সাধারণ আইনজীবীরা কেমন আছেন ? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি ভাল নেই সাধারণেরা ।

২০০৯ থেকে অনেকেই সরকারের সুবিধা নিচ্ছে পুরো পরিবার ,আমি দেখেছি সেই কান্না , চাকরি তো ভাল ই লাগে কিন্তু যখন আমাদের আইন কর্মকর্তাদের বাদ দেয়া হোল হুট করে , সেদিন ওদের মুখের দিকে তাকাতে পারি নাই ,ওরা কাঁদতে পারে না কিন্তু ওদের চোখ ছল ছল আমি অনুভব করেছি । আমি বুঝেছিলাম না কেন ওদের বাদ দেয়া হয়েছিল , কোন দুর্নীতি তো ওদের ছিল না শুধু বেশি দিন চাকরিতে ছিল এই অজুহাতে ,একটা আইনজীবী যখন দীর্ঘদিন সরকারের আইন কর্মকর্তা থাকে ,তার কোন বাক্তিগত মামলা থাকার কথা না কিন্তু হঠাৎ একদিন তারা হয়ে যান ব্রিফ লেস , এত স্বার্থপর এই অঙ্গনটা যে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না , কার উপর দিয়ে কে যাবে এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকে প্রতিনিয়ত ,কিন্তু সেই নিয়োগক্রীতরা যদি দুর্নীতিগ্রস্থ হয় তাইলে কি আপনাদের মান থাকে ?
যখন আমাদের বন্ধু ,সহকর্মীদের বাদ দেয়া হয়েছিল ,সবাইকে কি বাদ দিয়েছিলেন ? তোষামোদকারীদের জন্য বিশেষ বাবস্থা রাখা হয়েছিল ,যেন তারা ওই বক্সের মধ্যে নিরাপত্তায় থেকে যায় । আমরা সমতা দেখি নাই ,আমরা দেখেছি কি ভাবে দিনেদিনে তোষামোদকারীরা হয়েছে বোনাফাইড আওয়ামীলিগার… একই পরিবার সুবিধা পেল , অনেককে কখনো কোর্ট এ দেখি নাই , অনেকে এসেছে অন্য শহর থেকে , কোন দিন হাই কোর্ট এ আসে নাই সারাটা জীবন জজ কোর্ট এ থেকেছে সেও হয়েছে উচ্চ আদালতের আইন কর্মকর্তা, কথাটা বলছি কাউকে ছোট করার জন্য না , তারা নাকি এক কোর্ট একা চালাতে পারে না নিজেদের মাঝে সমঝোতা করে নিয়েছে একে অপরকে সহযোগিতা করে চালিয়ে নিবে ,আমাকে যদি বলা হয় জজ কোর্ট এ যেয়ে আর্গুমেন্ট করতে আমি কি পারব? আমি কি pp হতে পারি ? মাঝে মাঝে কোর্ট এ গেলে মনে হয় আমরা অর্বাচীন।

  আমরা প্রতিশ্রুতি নয় অ্যাকশন চাই

এখন অনেকে তোষামোদকারীরা আছে চাকরিতে , প্রথম্ থেকে এখন পর্যন্ত ,সেই ২০০৯ থেকে এরা সুবিধাভোগী , এদের নামে যে কোন অভিযোগ নাই তা ও না , কোন দুর্নীতি নাই বলা যাবে না, তারা মামলা করায় অন্য আইনজীবীদের নামে সবাই জানে কিন্তু কি শক্তি তাদের , তাদের ক্ষমতার উৎস কই, শুধু ই তোষামোদি ? আমরা সাধারণ আইনজীবীদের জন্য ভাবছি , সময় এসেছে সমতার মাধ্যমে বণ্টন হোক দায়িত্ব ,যোগ্যতার সাথে সুযোগ আসুক , সততার মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাক আমাদের আইনজীবীরা ।হোকনা একটু রি-সাফল ,আসুক না সমবণ্টন , দৃষ্টান্ত হোক কেউ কেউ বলুক অনেক দিন তো আছি এবার আসুন আপনাদের সুযোগ দেই।

আমার লিখায় কাউকে আঘাত দিতে চাইনি কিন্তু বাস্তবতা এমন যে সত্য কথা বললে তা কিন্তু কাঁটার মত ই মনে হয়। তবে হা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে থাকব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা করনাকালীন আজিত্রমাইসিন হিশাবে কাজ করে সাথে মনও ভাল থাকে ,কিছু ভাল কাজ করে মহান হয়ে থাকাও য়ায় ,সেই ভাল কাজের একটি হলও দুর্নীতির বিপক্ষে অবস্থান।

লেখিকা: এডভোকেট নাহিদ সুলতানা যূথী” সাবেক ট্রেজারার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, বার এসোসিয়েশন ও সভাপতি, রুলা।

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •