নিজস্ব সংবাদদাতা; হবিগঞ্জঃ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় জেলার মাধবপুর উপজেলার নিশু রঞ্জন দাশ নামের প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে শিক্ষা অফিস।

তিনি উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হাজী মিয়া চাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান এক চিঠি দিয়ে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

দএ বিষয় মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় কার্যালয় সিলেট থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের ভিত্তিতে তিনি এ চিঠি দিয়ে ওই শিক্ষককে বাধ্যতামুল অবসরে পাঠিয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কার্যালয়ের আদেশে বলা হয় ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের লিখিত জবাব, ব্যক্তিগত শুনানিতে শিক্ষকের জবানবন্দি, সকল তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় নিশু রঞ্জন দাশ-এর এইচএসসির ২.৬০  ফলাফল বিশিষ্ট সনদপত্র এবং একাডেমিক ট্রানস্ক্রিফট সন্দেহাতীতভাবে জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যোগ্যতাবিহীন ‘সহকারি শিক্ষক’ হিসাবে পদ অবনমিতকরণ করে সরকারি কর্মচারি (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা  ২০১৮-এর  ৪(৩) উপবিধি (খ) উপবিধি অনুযায়ি তাকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ প্রদান করা হলো।’

  দেশে ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে করোনা, মৃত্যু ২৪২৪

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের৩০ এপ্রিল উপজেলার হরিশ্যামা সরকারি (জাতীকরণকৃত) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নিশু রঞ্জন দাশের (পরবর্তিতে হাজী মিয়া চাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) বিরদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্বপেন্দ্র চন্দ্র পাল।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত শুরু করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের তদন্তে সনদ জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। পরে বিভাগীয় উপপরিচালক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে   ব্যক্তিগত শুনানী গ্রহণ এবং তদন্তের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির তদন্তেও সনদ জালের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষক নিশু রঞ্জন দাশ বলেন, আমি অসুস্থ। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

আমাদেরবাণী/ডিও