Shadow

সরকারিভাবে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার দিন শেষ হচ্ছে!

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  সরকারি হাসপাতালগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে ফি চালুর ব্যবস্থা (অর্থ বিভাগের সম্মতি-সাপেক্ষে) সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল অনুবিভাগ থেকে পেশ করা হয়েছে।

  • অর্থাৎ প্রস্তাবটি পাশ হলে নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত অংকের টাকা ফি-বাবদ গুনতে হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষা করে আসছে। যদিও সেই টেস্টের পরিমাণ প্রথম দিকে খুব সীমিত ছিল। তবে এখন টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে ৬৬টি সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন ১৫ হাজারের উপরে টেস্ট হচ্ছে। মোট নমুনা পরীক্ষার সিংহভাগই হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নমুনা পরীক্ষার জন্য তিন হাজার ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

  • করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ফি ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যয়বহুল এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার ফলে পরীক্ষাটির অনেক অপব্যবহার হচ্ছে। এই অপব্যবহার রোধে একটি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রের ভাষ্য, এখন টেস্ট দিন দিন বাড়ছে। ফলে প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ হয়। সেজন্য সামান্য ফি নির্ধারণ করার একটা চিন্তা-ভাবনা চলছে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত খসড়া তৈরি হয়েছে। হিসাব-নিকাশ শেষে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং ঘোষণা দেয়া হবে। তবে ফি সীমিতই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

  • সেই সীমিত ফি কত হতে পারে? জানতে চাইলে সূত্রটি বলে, সরকারি হাসপাতালের লাইনে দাঁড়ানো রোগী কিংবা ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য এবং সরকারি বুথগুলোতে ২০০ টাকা ফি দিতে হতে পারে। আর যদি কেউ বাসা থেকে টেস্ট করাতে চান, তাহলে তাকে ৫০০ টাকা ফি দিতে হতে পারে। এমন একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এটা আলোচনা হয়েছিল, এখনও কিছু ফাইনাল হয় নাই। সরকারের তো অনেক খরচ হচ্ছে, ধরেন একটা টেস্ট করতে বেসরকারিভাবে আমরা বেঁধে দিয়েছি তিন হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু আসলে ল্যাব বসানোর খরচ, যন্ত্রপাতির খরচ এগুলো যদি ধরা হয় আরও বেশি পড়ে সেক্ষেত্রে। এখন তো টেস্টের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ হাজারের কাছে চলে গিয়েছে, প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ হয়। সেজন্য সামান্য ফি ধরার একটা চিন্তা হচ্ছে। হিসাব-নিকাশ হচ্ছে, মিনিমাম কতটুকু কী করা যায়। ফাইনাল হলে নিশ্চয়ই জানতে পারবেন, অফিসিয়ালি আমরা ঘোষণা করে দেবো, বেশি দেরি হবে না, খুব তাড়াতাড়িই হবে।’

  • ফি কত হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই অল্প ফিগার ধরা হবে, বেশি না। এ নিয়ে কাজ চলছে, সবকিছু মিলে গেলে আমরা নির্ধারণ করে দেবো।’
  বিটিআরসির মহাপরিচালক হলেন এহসানুল কবীর

এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (২৮ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, গত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৭৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮০৯ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৭  হাজার ৭৮৭ । গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪টি আর পরীক্ষা করা হয়েছে পূর্বের মিলে ১৮ হাজার ৯৯টি। শনাক্তের হার ২১.০৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৯ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭২৭ জন। সুস্থতার হার ৪০.৪৪% এবং মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১-৪০ একজন, ৪১-৫০ সাতজন, ৫১-৬০ ১৩ জন, ৬১-৭০ ১২ জন, ৭১-৮০ সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ জন ঢাকা বিভাগের। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ (১০ জন)।

আমাদের বাণী ডট কম/২৮  জুন ২০২০/পিপিএম 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •