সরকারি ছুটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  ৩১ মে’র পর সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। আজ  বুধবার (২৭ মে ২০২০) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২০) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন কিছুক্ষণ আগে পেয়েছি। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ শে মার্চ থেকে বেশ কয়েকদফা সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও এবার ৩০শে মে’র পর আর ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হবে না।

তিনি আরও বলেন, ৩১ মে থেকে সরকারি আধা-সরকারি সব অফিস খুলবে। তবে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করবে। চলবে না গণপরিবহণ, রেল ও যাত্রীবাহী নৌযান। তবে বেসরকারি বিমানগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচল শুরু করতে পারবে।

এদিকে, গণ জমায়েত ও সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ধর্মীয় উপাসনালয় খোলা থাকবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাত্রী পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তবে অনলাইনে ক্লাস নেয়া যাবে।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ার পর ক্রমে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে।

যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে তারপরেও সাধারণ ছুটি আর না বড়ানোর সিদ্ধান্ত আসছে সরকারের পক্ষ থেকে।

  বাসার পরিচয় পত্র ছাড়া শপিংমলে ক্রেতারা ঢুকতে পারবে না

এর আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে ছুটি বাড়োনোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন।  তবে ঠিক কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে সেটি নিশ্চিত করে না  বললেও ৪ থেকে ১০ দিন ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (২৭ মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৮৪৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে আট হাজার ১৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৬টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও এক হাজার ৫৪১ জনের দেহে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২২ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪৪ জনে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৪৬ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ হাজার ৯২৫ জন। সুস্থতার হার ২০.৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৪২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২০ জন ও নারী দুইজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ০-১০ বছরের মধ্যে একজন, ২১-৩০ দুইজন, ৩১-৪০ দুইজন, ৪১-৫০ দুইজন, ৫১-৬০ সাতজন, ৬১-৭০ সাতজন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে একজন।

আমাদের বাণী ডট কম/২৭  মে ২০২০/সিসিপি