সুগন্ধা পরিবহন কেড়ে নিলো তাজা ৪ প্রাণ

কবে শেষ হবে! নাকি বলব কবে কমবে রাজপথের রক্তপাত! সুগন্ধা কি আজরাইলের অন্য রুপ! নিত্য যাত্রীরা যারা অফিস,আদালত স্কুল,সরকারী চাকরী করেন,তারা ঘরে আবার ফিরবেন কিনা থাকেন শংকায়।ড্রাইভার হেল্পার অসদ আচরনের রিপোর্ট করে পাওয়া যায়না ফল।সিট আছে বলে মহিলাদের হয়রানি বন্ধের হয়না প্রতিকার! সময় কাভার করতে গিয়ে কেড়ে নেয় প্রাণ।

সোনাপুর টু ফেনী একমাত্র যান সুগন্ধা কিং আর দ্রুতযান। মহসড়কে ঘাতক দানব।কিং লোকাল সার্ভিস।দ্রুতযান থামে নির্দিষ্ট স্টপে।বাস নয় যেন এরা এরোপ্লেন চালায়।সিটিং এর নামে চিটিং। ফেনী থেকে দাগুন ভুইয়া, সেনবাগ,চৌমুহানী,মাইজদীতে চলে লোকাল সি এন জি।বাসের মতো এরাও বেপোরোয়া। এ রুটের যাত্রীরা জিম্মি দ্রুতযান আর সি এন জির কাছে। অদক্ষ ড্রাইভারদের প্রতিযোগীতা অধৈর্য্যে প্রাণ হারায় সাধারন মানুষ আর সি এন জি ড্রাইভার। এমন কোন সাপ্তাহ,মাস নেই এই রুটে মানুষ মরছেনা।
মার্চের শেষ ভাগে এসে আরো একটি দুর্ঘটনা ঘটলো প্রাণ গেলো চার জনের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৩০-৩-২০১৯  বেলা তিনটার দিকে ফেনী থেকে নোয়াখালীগামী সুগন্ধ্যা দ্রুতযান সার্ভিস ও জেলা শহর মাইজদি থেকে চৌমুহনী গামী সিএনজি একলাশপুর নামকস্থানে আসলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সিএন জি গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। সিএনজি চালিত অটো রিক্সার সামনের সিটে ড্রাইভারসহ ৩ জন এবং পিছনের সিটে শিশু ও নারীসহ ৪ জন বসা ছিলো। ঘটনাস্থলে ৩ জন মারা যায়। আহত ৪ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ১ জন মারা যায়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের রশিদ কোম্পানীর বাড়ির সামনে সুগন্ধা বাস ও সিএন জি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ২ নারী ও ২ পুরুষ সহ ৪ জন মারা যায়। আহত হয়েছে শিশুসহ ৩ জন।

নিহত যাত্রীরা হলেন- খাদিজা বেগম (৪০), তার মেয়ে কামরুন্নাহার পলি (২০), বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শহিদুজ্জামান শাকির (২৩) ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি (৪০)।

  ছাত্র ফ্রন্ট কুড়িগ্রাম জেলার আহ্বায়ক আতিকুর, সদস্য সচিব বকুল

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহি উদ্দিন আজিম জানান, আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বরাতে জানা যায়,দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। চালক ও বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে।

গত জানুয়ারির একটি অনলাইন পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছিল, গত ৭ থেকে ১৭ জানুয়ারি এই ১১ দিনে জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল ও হাতিয়া উপজেলায় দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনায় প্রাণহানী ঘটেছে সোনাপুর-মাইজদী, চৌমুহনী-ফেনী আঞ্চলিক সড়কে। আর সড়কে প্রাণ ঝরে অনেকের পরিবার হচ্ছে নিঃস্ব। অনেকে আহত হয়ে অকালে বরণ করছে পঙ্গুত্ব।

অদক্ষ ও মাদকসেবী চালক, ড্রাইভারদের প্রতিযোগীতা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, সরু সড়কসহ নানা কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করলেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এমতাবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
গুগল সার্চ দিলেও পত্রিকার শিরোনামে দেখা যায় সোনাপুর টু মাইজদী রুটের হতাহতের ভয়ংকর চিত্র। সুগন্ধা নিয়ে এটি আমার তৃতীয় লেখা।

সুগন্ধা দ্রুতযান এক বার আমার স্ত্রী কে ফেলে দিয়েছিলো সেনবাগ রাস্তার মাথায়।সঠিক ভাবে নামার পুর্বেই দিয়েছিলো টান।অল্পের জন্য পিছনের চাকা তার শরীরে উঠেনি,মাথা আর শরীরে আঘাত পেয়েছিলো। এখন বাসে উঠতে সে ভয় পায়।অথচ সে একজন সরকারী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক।প্রতিদিন সি এন জি আর বাস তার যাতায়াতের বাহন।

আমাদের বাণী-আ.আ.হ/মৃধা

[wpdevart_like_box profile_id=”https://www.facebook.com/amaderbanicom-284130558933259/” connections=”show” width=”300″ height=”550″ header=”small” cover_photo=”show” locale=”en_US”]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *