সদ্য পাওয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২৯ জন । এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০ হাজার ৩২১ জনে।

আজ  বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২০) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে) ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 ডা. নাসিমা সুলতানা  বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ৯ হাজার ২৬৭টি। পূর্বেরসহ নমুনা পরীক্ষা করেছি ৯ হাজার ৩১০টি। এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ২৯ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৩২১ জন। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।’

তিনি  বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ১৫ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৫৫৯ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন করে সুস্থ হয়েছে ৫০০ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৪২৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

গতকাল বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৮৪৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে আট হাজার ১৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৬টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও এক হাজার ৫৪১ জনের দেহে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২২ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪৪ জনে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৪৬ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ হাজার ৯২৫ জন। সুস্থতার হার ২০.৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৪২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২০ জন ও নারী দুইজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ০-১০ বছরের মধ্যে একজন, ২১-৩০ দুইজন, ৩১-৪০ দুইজন, ৪১-৫০ দুইজন, ৫১-৬০ সাতজন, ৬১-৭০ সাতজন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে একজন।

  ঈদের আগেরদিন সড়কে ঝরলো ২১ প্রাণ

করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। তবে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। পৃথিবীর ১২০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ লাখ মানুষ। মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে ২৪ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। এদিকে ক্রমেই আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মানুষের জীবিকার তাগিদে ৮ম দফায় ছুটি না বাড়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকা। আগামী ৩১ মে থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে অফিস আদালত দোকানপাট ও সীমিত পরিসরে গণপরিবহন।

আমাদের বাণী ডট কম/২৮ মে ২০২০/ডিডিএ