Shadow

৪ মাস বয়সী সন্তানকে রেখে করোনায় লড়ছেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক তুহিন খান

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

  ‘থার্টি ফার্স্টে’ ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও অনুমতি লাগবে পুলিশের
দারুস সালাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তুহিন খান
দারুস সালাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তুহিন খান ও তাঁর ৪ মাস বয়সী শিশু কন্যা তাসলিয়া তোহা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  করোনাভাইরাস এক বৈশ্বিক মহামারী। দিন দিন বিশ্বকে গ্রাস করে নিচ্ছে এই মরনঘাতি এই ভাইরাসটি। প্রতিদিন বিশ্বে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন মারা যাচ্ছে কয়েক হাজার। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসে দেখতে দেখতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে জীবন প্রদীপ নিভে গেছে ৪’শতাধিক মানুষের। প্রাণ বিনাশী এই ভাইরাসটির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে চিকিৎসক ও বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছাকাছি যেতে হচ্ছে পুলিশের। কেননা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে এঁরাই। ফলে প্রাশসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যামোট ৩ হাজার ৫৭৪ জন। মারা গেছেন ১২ যোদ্ধা।

পরিবার পরিজন বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান রেখে প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধের সাথে লড়াই করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য ও কর্মকর্তারা। এমনি এক পুলিশ কর্মকর্তা রাজধানীর দারুস সালাম থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক তুহিন। গত চার মাস আগে সন্তানের বাবা হন। সিরাজগঞ্জে বাড়িতে একদিন বয়সী বাচ্চাকে এক পলক দেখে রেখে আসেন। করোনার এ যোদ্ধারা তাদের সন্তানকে আবার দেখতে পাবেন কি’না যানেন না তারা। কেননা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ১২ জন গর্বিত সদস্য বীর যোদ্ধার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে।

জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তুহিন খান,  আমি বাবা মা এর একমাত্র ছেলে আমার বাবা মা বৃদ্ধ তার সাথে আমার পরিবার ৪ মাসের ছেলে জন্য মন কাঁদে তার পরও মিরপুরে হাজার বাবা মার পাশে আছি তারা ভালো থাকলে ইনশাআল্লাহ আমার বাবা মা পরিবার ভালো থাকবেন।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  তোফায়েল আহমেদ বলেন, তুহিন সহ আমি আমার সব অফিসার ও ফোর্স সবাই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উর্ধতন কর্মকর্তারা তারা মাঠে থেকে আমাদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন তাঁরাও মাঠে থেকে আমাদের সাহস যোগাচ্ছেন।  আমরা সবাই নিজের কথা চিন্তা না করে মানুষের জন্য ও দেশের জন্য কাজ করছি।

সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষে ফেরার পথে সংবাদদাতা জানান, সংসদ ভবন এলাকা ছেড়ে যখন তিনি ফিরছিলেন, তিন পুলিশ সদস্যকে দু চারটা খেজুর আর সামান্য ডাল, মুড়ি ও পানি পান করে ইফতারি করছেন জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তারা এই যথ সামান্য ইফতার নিয়েই নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে খেয়ে নেন। করোনায় দায়িত্ব বেড়েছে প্রতিনিয়ত আমাদের সহকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন থাকতে হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। ফলে আমরা যারা আছি প্রায় ডাবল দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর বাইরে বড় আয়োজনে ইফতারি করার সময় নেই।

এভাবেই প্রতিনিয়ত সামান্য ইফতারি নিয়েই দেশ রক্ষায় ব্রত এসব করোনা যোদ্ধারা। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন মরছেন তবুও দেশ রক্ষায় লড়ছেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক তুহিন খানের মত ছোট বাচ্চা অথবা বৃদ্ধ বাবা মা, স্ত্রীকে বাড়ীতে রেখে। এসময়ের এই বীর যোদ্ধাদের দেশ বাঁচানোর লড়াইয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ  তাদের পাশে আছেন।

উল্লেখ্য,  করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আট জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৯ জন, সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২০ জন, পরিদর্শক পদমর্যাদার ৯৭ জন, উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার ৩৮৬ জন, সহকারী উপপরিদর্শক পদমর্যাদার ৪৮১ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৩ হাজার ৫৭৪ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

আমাদের বাণী ডট কম/২৪ মে ২০২০/ভিপিএ


শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •