প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) বহিষ্কৃত ১৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না জানানোয় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে ৮ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তদরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। ওইদিন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।

আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল।

পরে জামিউল হক ফয়সাল বলেন, বিবাদীদের বিষয়টি আদালতকে জানানোর কথা ছিল। কিন্তু না জানানোর ফলে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল দিতে। পাশাপাশি প্রাথমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাইকোর্টে ৮ জানুয়ারি হাজির হতে হবে।

তিনি আরও বলেন বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বয়স ১০-১১ বছর। এ বয়সের একটি শিশুকে বহিষ্কার করা তার মানসিক জগতে প্রভাব ফেলবে। তাদের বহিষ্কার করা উচিত হয়নি। তাদের বহিষ্কার না করে অন্য কোনও উপায় অবলম্বন করা যেতে পারতো।

১৯ নভেম্বর ‘পিইসি পরীক্ষায় শিশু বহিষ্কার কেন’ শিরোনাম নামে সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনটি ২১ নভেম্বর আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। তার সঙ্গে ছিলেন এম মাহমুদুল হাসান, গাজী ফরহাদ রেজা ও মো. ফয়জুল্লাহ ফয়েজ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের নির্দেশনার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’র বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গত রোববার থেকে শুরু হওয়ার পর সোমবার (১৫-১৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫ শিশু বহিষ্কার হয়েছে। পরীক্ষায় অসাধুপন্থা অবলম্বন করার অভিযোগে এসব শিশুকে বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয়ে নির্দেশনাও রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। তবে শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষক এমনকি অভিভাবকরা বলছেন, কোমলমতি শিশুদের এ ধরনের বহিষ্কার তাদের ওপর এক ধরনের মানসিক নির্যাতন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।