কুষ্টিয়ার খোকসায় ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সম্মেলন কেন্দ্র করে খোকসায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মারমুখি হয়ে উঠেছে। ভায়ের বিরুদ্ধে আর এক ভায়ের মামলা। সংসদ সদস্য ও জেলা নেতাদের উপস্থিতির মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে সব ইউনিয়নের সম্মেলন। পুলিশ আতঙ্কে নেতা কর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছে। অফিস গুলো কর্মী শুন্য হয়ে পরেছে। এক মামলায় আটক ৫ জন। ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করলেন আওয়ামী লীগের সভপতির।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের সাথে কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের দূরত্বের সূত্রপাত হয়। শুরু হয় পক্ষ বিপক্ষের হিসাব। সম্প্রতি উপজেলার নয় ইউনিয়ন ও পৌরসভার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তারিখ ঘোষনার পর সংসদ সদস্য সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপিত বাবুল আকতারের সাথে জেলার সভাপতির সভাপতি ও তার অনুসারীদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে। চরম উত্তেজনাকর পরিবেশে ইতোমধ্যে দুই পক্ষ পৃথক পৃথক ওয়ার্ড সম্মেলন করে।
গত সপ্তাহে উপজেলা সদরের খোকসা ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটি কমিটি জমা পরায় কমিটি ঘোষনা ছাড়াই সম্মেলনি সভা শেষ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারন কর্মীরা কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চালিক মহাসড়ক অবরোধ করে। একই ভাবে ওসমানপুর, বেতবাড়িয়া, একতারপুর ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা ছাড়াই সম্মেলন শেষ করা হয়।
বিপত্তির সৃষ্টি হয় গত সোমবার সকালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন সম্মেলনী সভা শুরু পর। মঞ্চে কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অন্যান নেতাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে বাদ পরেনি কেউ। এ হামলার ঘটনার রেস ছড়িয়ে পরে ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর, হিজলাবট, বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদট, মুকশিতপর, আমবাড়িয়া, জয়ন্তী হাজরা, গোপগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ১৫টিও বেশী গ্রামে। পরিস্থিতি সিথিল করতে ইতোমধ্যে উপজেলা সব ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সম্মেলন স্থগিত ঘোষনা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি বাজারের সভামঞ্চে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতারসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনের নামে দায়ের করা মামলার বাদি হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভপতির অনুগত ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকূল ইসলাম ওরফে শুটকা। (মামলা নম্বর ০৪)। এই পক্ষ থেকে একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক আহবায়ক নবাব আলী জানান। অন্যদিকে সংসদ সদস্যের অংশের পক্ষ থেকেও থানায় দুটি মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি । তবে তাদের মামলা গুলো রেকর্ড করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এমপি অংশের নেতা শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ তার ভাই রফিকূল ইসলাম শুটকার বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করেছেন।
মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থানা ও ডিবি পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশী চালায়। অভিযান শুরু দিকে এমপি অংশের নেতা বাপ্পি বিশ্বাস রাজু, সান্টু মেম্বর, মঞ্জুয়ার রহমান মেম্বর, বাদশা ও সুজন আটক হয়েছে। পুলিশি অভিযানের পর মুহুত্যের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত নেতাদের অফিস গুলো কর্মী শুন্য হয়ে পরেছে। অনেকে পুলিশি হরানির ভয়ে গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। পুলিশ অভিযানে আট বাপ্পি বিশ্বাস রাজু ও সান্টু মেম্বরকে বুধবার সকালে আদালতে প্রেরন করা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম তসর জানান, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলার সমস্ত সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। পনিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করা হবে। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভপতিসহ অন্যনেতাদের নামে মামলার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভপতির অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র তারিক বলেন, জেলার নেতারা নতুন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সম্মেলন বন্ধ থাকবে। তবে দুই একদিনের জেলা থেকে মধ্যে নতুর সিদ্ধান্ত আসতে পাওে বলেও তিনি জানান।
কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের দায়ের করা মালাটি পুলিশ খুব দ্রুত রেকর্ড করে তার লোকদের হয়রানি করছে। অথচ তিনি নিজে বাদি হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়েছেন। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অপর একটি মামলা দেওয়া হয়েছে। কোন মামলা ওসি রেকর্ড করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির উষ্কানীতে রফিকূƒল ইসলাম তার বিরুদ্ধে মাইকে কুৎসা রটনা করে। বিষয়টি নিয়ে তিনি মঞ্চে উপস্থিত জেলা আওযামী লীগের নেতাদের জানানোর পরে তারা নিশ্চুপ ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় এ রির্পোট লেখা সময় খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কয়েকজন আসামী আটক করা হয়েছে। বাঁকীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত ও অভিযান অব্যহত রাখা হয়েছে। তবে প্রতি পক্ষের মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে প্রশ্ন করার সাথে সাথে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন সাংবাদিকের কাছে। জানতে চান তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা কেনো হয়। এ ছাড়া চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের মামলা সম্পর্কে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বিবাদমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবং জেলা সভাপতির সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয় তারা ফোন রিসিভ করেনি।
