গত ১৫ এপ্রিল‘১৯ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি বেতন থেকে ১০ শতাংশ কর্তনের আদেশ জারি করে। এর ফলে চলতি এপ্রিল থেকে বেতনের ১০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হয়। এই অর্থ বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে জমা হবে। এত দিন শিক্ষক প্রতি অবসর বোর্ডের জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা কর্তন করা হচ্ছিল। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুসারে অবসরের জন্য ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪ শতাংশ হারে কাটা হচ্ছে। অবসর গ্রহণের পর আবেদন করে সে অর্থ তোলা যাবে।
অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ চাঁদা কাটার প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের নেতারা। একইসঙ্গে তারা বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণেরও দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের এমপিও থেকে অতিরিক্ত চাঁদা কর্তন নিয়ে গতকাল একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. কাওছার আলী শেখ জানান,‘অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের চাঁদা বাবদ শিক্ষকদের এমপিও থেকে ১০ শতাংশ কর্তন করা হবে না বলে কথা দিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। পদাধিকারবলে অবসর-কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তিনি। তার দেয়া কথা রাখেননি তিনি।’
তিনি আরও জানান, ‘কোনও বর্ধিত সুবিধা না দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে অতিরিক্ত চাঁদা কর্তনের যে অমানবিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা শিক্ষার মানোন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আমরা এই অতিরিক্ত চাঁদা কর্তনের প্রতিবাদ করেছি এবং ওই প্রজ্ঞাপন স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো: নজরুল রনি এর আগে বলেছেন , কোনো আলোচনা ছাড়াই শিক্ষকদের অতিরিক্ত চার শতাংশ কর্তনের প্রজ্ঞাপনে আমরা ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। অতিরিক্ত কর্তনে শিক্ষকদের কোনো মত ছিল না, নেইও। কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের কয়েকজন পুরো পাঁচ লাখ শিক্ষকের অভিভাবক নয়।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদেরসংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটেরএক নেতা বলেন, এখন শিক্ষকদের জন্য পেনশন চালু করার সময় এসেছে। সরকার দেশের যে উন্নয়নের বন্যার কথা বলছে, তাতে সরকারের সক্ষমতা হয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর অবিলম্বে পেনশন চালু করার। তিনি প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বা প্রত্যাহার দাবি ।
