ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৫ হাজার ১২৯ জন সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

  • পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা জানান, মোট আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ২ হাজার ৯৩ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সেরে ওঠা পুলিশ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ কমস্থলে যোগ দিয়েছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের অবিচ্ছিন্ন চেষ্টা এবং নির্দেশনার ফলে সংক্রমিত পুলিশদের সেরে উঠার হার সন্তোষজনক জানিয়েছেন এআইজি।

  • পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানায়, সোমবার সকাল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত মোট সদস্যদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশেরই (ডিএমপি) ১ হাজার ৬৫৮ জন। আক্রান্তদের ১২০৬ জনকে আইসোলেশন এবং ৫১৬২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস সাধারণ মানুষ ছাড়াও এর মোকাবিলা করতে গিয়ে সম্মুখসারীর ডাক্তার, নার্স, এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫ জন সদস্য কোভিড-১৯ এর কারণে মারা গেছেন, বলে পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

  • সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের সদস্য ছাড়াও উচ্চপদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ক্রমেই খারাপ হতে থাকা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ইমপালস হাসপাতাল ভাড়া করেছে।

এদিকে, সরকার রোববার থেকে সড়ক, নৌ ও রেলপথ পরিবহন সেবা চালু করার অনুমতি দিয়েছে। সেইসাথে সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালতও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার কোভিড-১৯ এর কারণে সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যু এবং নতুন করে ২ হাজার ৫৪৫ জনের করোনা শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০১ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩৮১ জন । এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৯ হাজার ৪৭ হাজার ৫৩৪  জনে। দেশে ৫২টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১০৪টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৯টি। আক্রান্তের হার ২০.৮১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৫৯৭ জন। সুস্থতার হার ২১.৩৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ১৯ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, সিলেট বিভাগের দুইজন ও বরিশাল বিভাগের একজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন ৪১-৫০ আটজন, ৫১-৬০ চারজন, ৬১-৭০ সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬ জন, বাড়িতে পাঁচজন ও হাসপাতালে আনার পথে একজন।

আমাদের বাণী ডট কম/০১  মে ২০২০/সিসিপি 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।