তারেক, ছাগলনাইয়া( ফেনী) সংবাদদাতা; শ্রেণি কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর গায়ের জামাকাপড় খুলে প্রস্রাব পরিস্কার করার অভিযোগ ওঠেছে ফেনীর ছাগলনাইয়ার এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে গতকাল (১৫ মার্চ ২০২০) বিকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্রীর বাবা আলী হাসান।
এ ঘটনায় গতকালই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও সাজিয়া তাহের।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, পূর্ব হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সাবিয়া তাবাচ্ছুম মিম প্রতিদিনের মত রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে যায়। ক্লাস চলাকালীন সময়ে তার প্রস্রাবের বেগ হলে বাথরুমের যাওয়ার জন্য শ্রেণী শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তারের কাছে অনুমতি চায়।
ক্লাস শুরু আগে কেন প্রস্রাব করেনি- এবলে শিশুর উপর রেগে গিয়ে বকাঝকা করেন প্রধান শিক্ষক। ক্লাস শেষ হওয়ার আগে বের হতে পারবেনা বলে শিশুকে তিনি শাসিয়ে দেন। তখন প্রস্রাবের প্রচণ্ড বেগ থাকায় ক্লাসের মধ্যেই প্রস্রাব করে দেয় ওই শিশু শিক্ষার্থী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্লাসে প্রস্রাব করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রীকে মারধর করে জামা কাপড় খুলে নেয় প্রধান শিক্ষক। এ জামাকাপড় দিয়ে প্রস্রাব পরিস্কার করে খালি গায়ে ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় প্রধান শিক্ষক।
ছাত্রীর বাবা আলী হাসান জানান, সহপাঠীদের সামনে উলঙ্গ করায় তার মেয়ে লজ্জায় কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে। ম্যাডামের এমন আচরণের পর থেকে তার মেয়ের মনে ভয় ঢুকে গেছে। খালি গায়ে বাড়িতে এসে সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তখন সে থরথর করে কাঁপছে। পরনে প্যান্ট ছিলনা। প্রধান শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে তিনি ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ এসেছে। স্যার আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি অ্যাকশনে যাব।’
জানতে চাইলে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের জানান, শিশুকে নিয়ে তার বাবা আমার কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি শিশুকে দেখে ধারণা করেছি যে, তার উপর কতটা নির্মমতা হয়েছে। শিক্ষা অফিসারকে কারণ দর্শাতে বলেছি। প্রয়োজনীয় আইনগত সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তার বলেন, ‘ পড়ার নেয়ার সময় হলে ওই মেয়ে সবসময় নানা অজুহাত দেখিয়ে ক্লাস থেকে বের হতে চায়। আমি পড়া দিয়ে বের হতে বললে সে ক্লাসে প্রস্রাব করে দেয়। আমি তার জামাকাপড় খুলেছি। তবে আমি নিজে অন্য কাপড় দিয়ে প্রস্রাব পরিস্কার করেছি। এখন এটা নিয়ে এত হৈচৈয়ের কি আছে। আমি তো বিষয় টা বুঝতেছিনা।’
আমাদের বাণী ডট কম/১৬ মার্চ ২০২০/সিএ
