গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার তৃতীয় কাউন্সিলে সেলিম মাহমুদকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলাম শরীফকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটি  গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে তৃতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এই কমিটি ঘোষণা করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার তৃতীয় কাউন্সিলে সেলিম মাহমুদকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলাম শরীফকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটি  গঠন করা হয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে কাউন্সিলে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, বোম্বে সুইটস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রতন মিয়া, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।

আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, ২০০৬ সালে শ্রম আইন প্রণিত হয়। সমস্ত শ্রমিক সংগঠন এ আইন শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী বলে প্রতিবাদ করে এবং গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানান। কিন্ত ২০১৩ ও ২০১৮ দুইবার শ্রম আইন সংশোধিত হলেও শ্রমিক সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী তা সংশোধন না করে কেবলমাত্র বিজেএমইএ বিকেএমইএ চেম্বার অব কমার্স প্রভৃতি মালিক সংগঠনের পরামর্শ মত এ আইন সংশোধন করা হয়। এতে শ্রমিকরা উপকৃততো হয়ই নাই, বরং অনেকক্ষেত্রে শ্রমিক অধিকার আরও বেশি সংকুচিত হয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার তৃতীয় কাউন্সিলে সেলিম মাহমুদকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলাম শরীফকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটি  গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রম আইনের ২৩, ২৬, ২৭ ধারা ব্যবহার করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সার্ভিস বেনিফিট বা গ্রাচ্যুয়িটি শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তাজনিত অধিকার। ২৭ ধারা মোতাবেক চাকুরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণতার সাথে গ্রাচ্যুয়িটি বা সার্ভিস বেনিফিট পাওয়ার শর্ত যুক্ত করা সম্পুর্ণ অনৈতিক। ২৩ ধারা অপব্যবহার করে শ্রমিকদের সমস্ত প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে আইএলও এর ৮৭ এবং ৯৮ নম্বর কনভেনশন রেটিফাই করা হলেও শ্রম আইনে এখন পর্যন্ত আর প্রতিফলন নেই। পিসি কমিটিকে ট্রেড ইউনিয়নের বিকল্প হিসাবে উপস্থাপনের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। মৃত্যুজনিত ক্ষতি পূরণ মাত্র ২ লক্ষ টাকা এবং ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ করা হয়েছে। কোনটাই বর্তমান বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইন করে সুনির্দিষ্ট মানদ- নির্ধারণ করে বর্তমান বাজার দর বিবেচনায় মৃত্যুজনিত ক্ষতিপুরণ ও মজুরি পুনর্নিধারণ করতে হবে। কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে, শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে প্রযুক্তির সুবিধা কি শুধু মালিকদের জন্য? তাই ছাঁটাই নয় বরং প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধির অনুপাতে শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে হবে, কর্মঘণ্টা কমাতে হবে।

কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন, সহ সভাপতি- হাসনাত কবির, হাসান মাহমুদ, আমানউল্লাহ আমান, সহ সাধারণ সম্পাদক- নূর হোসেন সর্দার, রুহুল আমিন সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক : মো . সোহেল, দপ্তর সম্পাদক : কামাল পারভেজ মিঠু, অর্থ সম্পাদক : খোরশেদ আলম , আইন বিষয়ক সম্পাদক : মোঃ মোহসিন, সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক : মো. আনিছুর রহমান, ক্রিড়া সম্পাদক : মো. মোহসিন মিয়া এবং কার্যকরী সদস্যরা হলেন,  শহীদুল ইসলাম, সামিউল, আশেকে রাসুল শাওন, সাইফুল ইসলাম,  আনোয়ার হোসেন,  গোলাম মোস্তফা, আবদুল কাহার খোকন, মাহবুব হোসেন,  দ্বীন ইসলাম,  আমিনুল ইসলাম, মোসা. সুইটি ও আসমা আক্তার ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।